​পুলিশ প্রশাসনে বড় ধাক্কা: একদিনে অবসরে ১৭ শীর্ষ কর্মকর্তা

 প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

​পুলিশ প্রশাসনে বড় ধাক্কা: একদিনে অবসরে ১৭ শীর্ষ কর্মকর্তা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান নাকি নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল—এই নিয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই একযোগে ১৭ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠালো সরকার। রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। হঠাৎ করে এত বড় সংখ্যক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরে এখন টক অব দ্য টাউন।

​ঘটনার সূত্রপাত হয় সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারার প্রয়োগের মাধ্যমে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষার্থেই এই কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা সবাই অবসরজনিত সব আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। গত ২২ এপ্রিলও একইভাবে ১৩ জন কর্মকর্তাকে বিদায় করা হয়েছিল, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে সরকার পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে একটি বড় ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

​এবারের তালিকায় থাকা নামগুলো বেশ ওজনদার। অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ থেকে শুরু করে হাইওয়ে পুলিশের ইমতিয়াজ আহমেদ ও রফিকুল হাসান গনি—সবাই দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন। সিআইডির ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদের মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদেরও এই প্রজ্ঞাপনে ঘরে ফেরার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাদ যাননি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মজিদ আলী কিংবা নৌ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও।

​প্রশাসনিক এই রদবদলের হাওয়া লেগেছে পুলিশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতেও। নোয়াখালী, খুলনা ও রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্টসহ পুলিশ স্টাফ কলেজের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তালিকায় থাকা একমাত্র নারী কর্মকর্তা হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রখফার সুলতানা খানমও রয়েছেন এই বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায়।

​সরকার এই পদক্ষেপকে 'জনস্বার্থে নেওয়া প্রশাসনিক প্রক্রিয়া' হিসেবে অভিহিত করলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি পুলিশ বাহিনীর চেইন অফ কমান্ডে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায় বার্তা বাহিনীর ভেতরে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই শূন্য পদগুলোতে কারা আসছেন এবং এই রদবদল পুলিশের কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement