শেয়ারিং অ্যাপে কমবে রিকশা-সিএনজি ভাড়া, যানজটমুক্ত ঢাকার স্বপ্ন বুয়েট শিক্ষার্থীদের
ডেক্স নিউজ:
রাজধানীর গণপরিবহন সংকটে নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে ‘জাইগো’। বুয়েটের তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবিত এই অ্যাপের মাধ্যমে এখন থেকে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অন্য যাত্রীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে যাতায়াত করা যাবে। এতে যাত্রীদের যাতায়াত খরচ এক ধাক্কায় অর্ধেক বা তারও বেশি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা শহরের চিরচেনা দৃশ্য হলো বাসে বাদুড়ঝোলা ভিড় আর সিএনজি অটোরিকশায় মাত্রাতিরিক্ত ভাড়ার নৈরাজ্য। এই চরম ভোগান্তি থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের তিন শিক্ষার্থী জোবায়ের খান, মুস্তাকিম মোরসেদ ও আবুল বাসার তৈরি করেছেন এই ‘ভেহিকেল-পুলিং’ প্ল্যাটফর্ম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু করা অ্যাপটি এরই মধ্যে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
যেভাবে কাজ করে ‘জাইগো’
এই প্ল্যাটফর্মের মূল মন্ত্র হলো ‘শেয়ারিং’। আপনি যে পথে যাবেন, ঠিক সেই সময়ে একই গন্তব্যে যেতে ইচ্ছুক এমন আরও যাত্রী খুঁজে দেবে অ্যাপটি। ফলে একটি রিকশা বা সিএনজিতে একাধিক যাত্রী উঠে ভাড়ার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, কারওয়ান বাজার থেকে যাত্রাবাড়ী যেতে চারশ টাকা ভাড়া হলে, অ্যাপের মাধ্যমে তিনজন সহযাত্রী মিলে গেলে প্রত্যেকের খরচ পড়বে নামমাত্র। উদ্যোক্তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে যাতায়াত করলে ভাড়া ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।
যানজট নিরসন ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি
ব্যক্তিগত সাশ্রয়ের পাশাপাশি এই উদ্যোগের বড় লক্ষ্য শহরের অসহনীয় যানজট কমানো। একই গন্তব্যে একাধিক গাড়ি না গিয়ে একটি গাড়িতে শেয়ার করে যাতায়াত করলে সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, যা পরোক্ষভাবে জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। চমকপ্রদ এই আইডিয়ার কারণে এরই মধ্যে বৈশ্বিক স্টার্টআপ নেটওয়ার্ক ‘এফ৬এস’-এর তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ রাইড হেইলিং কোম্পানির মধ্যে চতুর্থ স্থান দখল করে নিয়েছে জাইগো।
নিরাপত্তায় বিশেষ জোর
অপরিচিত মানুষের সঙ্গে পথ চলায় নিরাপত্তার যে শঙ্কা থাকে, তা কাটাতেও প্রযুক্তিগত সমাধান রাখা হয়েছে। অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের সময় ব্যবহারকারী যাচাইকরণ ছাড়াও থাকছে লাইভ লোকেশন ট্র্যাকিং ও জরুরি কল সুবিধা। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য রয়েছে ‘জেন্ডার প্রেফারেন্স’ অপশন, যার মাধ্যমে তারা চাইলে কেবল নারী সহযাত্রীদের সঙ্গেই পথ ভাগ করে নিতে পারবেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে ঢাকার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও তরুণ এই উদ্যোক্তারা ডানা মেলতে চান বিশ্ববাজারে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আগামী মাসেই মালয়েশিয়ায় কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এরপর পর্যায়ক্রমে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সুসংহত হলে ‘জাইগো’ ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।