পিএসএল মাতিয়ে ফিরলেন নাহিদ রানা: গতির ঝড়ে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার

 প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

পিএসএল মাতিয়ে ফিরলেন নাহিদ রানা: গতির ঝড়ে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার

​ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা

​মরুর বুকে নয়, পাকিস্তানের ২২ গজে যখন গতির ঝড় তুলছিলেন ২৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবক, তখন গ্যালারিতে কেবল বিস্ময়। দেশের বাইরে নিজের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েই পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) যা করে দেখালেন নাহিদ রানা, তা এর আগে কোনো বাংলাদেশি তো বটেই, এবারের আসরে বিশ্বের নামী-দামী কোনো বোলারও করে দেখাতে পারেননি। পেশোয়ার জালমির জার্সিতে নাহিদ রানা যেন এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে ধরা দিয়েছিলেন, যার তপ্ত বোলিংয়ে ৯ বছর পর শিরোপার খরা ঘুচল বাবর আজমের দলের।

​ফাইনালে হায়দরাবাদের বিপক্ষে যখন স্নায়ুচাপ তুঙ্গে, তখন বল হাতে নাহিদ রানা ছিলেন বরফশীতল। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে শিকার করেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। তবে গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেওয়া মুহূর্তটি ছিল তাঁর সেই মায়াবী 'মেডেন ওভার'। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে ব্যাটাররা চড়াও হতে মুখিয়ে থাকেন, সেখানে উইকেটের দেখা পেয়েও কোনো রান খরচ না করাটা এক বিরল দক্ষতা। আর এই পথেই তিনি গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। এবারের আসরে একাধিক মেডেন ওভার করা একমাত্র বোলার এখন নাহিদ রানা।

​টুর্নামেন্টে নাহিদের পথচলাটা কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের চেয়ে কম নয়। শুরুটা ছিল বিবর্ণ, হায়দরাবাদের বিপক্ষে উইকেটশূন্য প্রথম ম্যাচে রান বিলিয়েছিলেন দুহাতে। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেননি। করাচি কিংসের বিপক্ষে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার দিনে তিনি যে ২০টি ডট বল দিয়েছিলেন, সেটিই ছিল আগামীর সংকেত। এরপর লাহোর কালান্দার্স ও মুলতান সুলতানসের বিপক্ষেও ছিলেন সমান বিধ্বংসী। পরিসংখ্যান বলছে, কমপক্ষে ১০ ওভার বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে ১০.৮৮ বোলিং গড় এবং ৫.৪৪ ইকোনমি নিয়ে সবার শীর্ষে আছেন এই লাল-সবুজ প্রতিনিধি।

​নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য মাঝপথে দেশে ফিরতে হয়েছিল রানাকে। বিসিবি তাকে আর না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য পেশোয়ার জালমি একপ্রকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল তাকে ফিরে পেতে। পিসিবিকে দেওয়া সেই বিশেষ অনুরোধ আর বাড়তি বোনাসের প্রস্তাব যে বিফলে যায়নি, তার প্রমাণ রানার ফাইনালে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স। তরুণ এই পেসারের হাত ধরে শুধু পেশোয়ারই চ্যাম্পিয়ন হয়নি, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের দাপট আরও একবার সগৌরবে ঘোষিত হলো।

Advertisement
Advertisement
Advertisement