পর্যটন ও বিমান খাতে নতুন দিগন্ত: জেলা প্রশাসকদের একগুচ্ছ নির্দেশনা‘
নিজস্ব প্রতিবেদক।
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে দেশের পর্যটন ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দৃঢ় প্রত্যয়। এদিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কেবল নামমাত্র পর্যটন নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়েছেন কক্সবাজারের ওপর। বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতের পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিটি জেলা তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যা বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। পর্যটন খাতের এই অগ্রযাত্রায় আকাশপথের গুরুত্বও সমানভাবে আলোচিত হয়েছে। বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ সময় এক রোমাঞ্চকর তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই চালু করার যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুর, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়াসহ দীর্ঘদিন পড়ে থাকা দেশের আটটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রান্তিক অঞ্চলের সঙ্গে কেন্দ্রের সংযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত হবে আরও সহজতর।
একই দিনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী জানান, কেবল আধুনিক অবকাঠামো নয়, দেশের শিকড় ও ঐতিহ্যকেও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি জেলাগুলোতে নতুন করে প্রত্নতত্ত্ব অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি জরাজীর্ণ শিল্পকলা একাডেমি ভবন ও লাইব্রেরিগুলো সংস্কার করে সেগুলোকে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পর্যটন, বিমান ও সংস্কৃতি— এই তিন খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ অচিরেই দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।
একটি টেকসই পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ডিসিদের কার্যকর ভূমিকা পালন করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়ে এই অধিবেশন শেষ হয়। এখন দেখার বিষয়, মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেশের অর্থনীতি ও পর্যটন ইমেজকে কতটা বদলে দিতে পারে।