রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু: ঘাতক বাইকের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে আরও একটি প্রাণ ঝরে গেল বেপরোয়া গতির বলি হয়ে। ডেমরা এলাকার বড়ভাঙ্গা মহাকাশ বাইপাস রোডে রাস্তা পার হতে গিয়ে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা ডলিমুন নেছার। গত রবিবার দিবাগত গভীর রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
রাত যখন নিঝুম, চারদিকে যানবাহনের চাপ কিছুটা কম থাকলেও ডেমরার বাইপাস সড়কে বাইকগুলোর গতি ছিল অনেকটা লাগামহীন। ঠিক সেই সময়েই রাস্তা পার হচ্ছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা ডলিমুন নেছা। হঠাৎ পেছন থেকে একটি বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল সজোরে তাঁকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় বৃদ্ধা ছিটকে গিয়ে শক্ত পিচঢালা রাস্তায় আছড়ে পড়েন। এতে তাঁর শরীর ও মাথায় মারাত্মক জখম হয়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত তখন প্রায় দেড়টা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ডলিমুন নেছার ছেলে মো. সোহরাব কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাঁর মা সারুলিয়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করতেন। রাতের বেলা রাস্তা পার হতে গিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। একটি মুহূর্তের অসাবধানতা আর বাইক চালকের নিয়ন্ত্রণহীন গতি আজ তাঁদের পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী হাসপাতালে আনার আগেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত বৃদ্ধার স্বামীর নাম সেহার আলী ভূঁইয়া। তাঁদের আদি বাড়ি শেরপুর হলেও জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা ডেমরার সারুলিয়ায় বসবাস করছিলেন। ঘাতক মোটরসাইকেল ও তার চালক সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো জানা যায়নি। রাজধানীর রাজপথে একের পর এক এমন সড়ক দুর্ঘটনা নগরবাসীর মনে আবারো ট্রাফিক আইন ও গতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।