মানুষই অগ্রাধিকার: মাঠ প্রশাসনকে জনসেবায় আরও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মানুষই অগ্রাধিকার: মাঠ প্রশাসনকে জনসেবায় আরও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর ব্যস্ত সকাল। ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন-এ জড়ো হয়েছেন দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন–২০২৬-এর উদ্বোধনী দিনে যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল সরকারের মূল বার্তা—সবকিছুর আগে মানুষ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “দেশের মানুষ এবং তাদের প্রতি আমাদের সার্ভিস হতে হবে সম্পূর্ণ ডেডিকেটেড। এই বিষয়টি সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে।” তার কথায় যেন প্রতিফলিত হয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা এবং দায়িত্ববোধের গভীরতা।

তিনি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের উদ্দেশে বলেন, মাঠ প্রশাসনই সরকারের কার্যক্রম বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি। সরকারের নীতিমালা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের ভার অনেকাংশেই তাদের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিবারভিত্তিক উন্নয়ন ধারণা।

এই প্রেক্ষাপটে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীর মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করছে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর—যা জেলা প্রশাসকদের অন্যতম দায়িত্ব।

একই সঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের জন্য চালু হওয়া নতুন ভাতা প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও অন্যান্য ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য এই উদ্যোগ তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এখন জাতীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব স্তরে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে অপচয় কমে এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বও বহুমাত্রিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের মুখ্য প্রতিনিধি। এই সম্মেলন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি নীতি নির্ধারণী পর্যায় এবং মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি সংলাপ ও সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

সম্মেলনের প্রথম দিনের পরিবেশেই বোঝা যায়—প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন বড়, তেমনি সুযোগও বিশাল। আর সেই পথচলার মূলমন্ত্র একটাই: মানুষের জন্য কাজ, মানুষের সেবায় নিবেদন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement