ফ্লোরিডায় পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন হত্যা: সোমবার ঢাকায় পৌঁছাবে মরদেহ, ঘাতকের বিচার চেয়ে শোকের ছায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আগামীকাল সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে তাঁর মরদেহ দেশে আসছে।
রোববার (৩ মে) ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, গত শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি ট্রানজিটে রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যে ঘটনা
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) পিএইচডি গবেষণারত জামিল আহমেদ লিমন (২৭) গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাঁর সহপাঠী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও। পরদিন তাঁদের বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে পুলিশি অনুসন্ধান শুরু হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘাতক অত্যন্ত নৃশংসভাবে লিমনের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে একটি কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ফেলে রেখেছিল। হত্যাকাণ্ডের এই অমানবিকতায় সাউথ ফ্লোরিডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি ও লিমনের সহপাঠীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লিমনের পরিবার এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নিখোঁজ নাহিদা সুলতানার বিষয়ে উদ্বেগ
উল্লেখ্য, জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার হলেও তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া অপর শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার রহস্য এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহত জামিল লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাঁর অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাস পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।