উন্নয়ন ও সংস্কারে ডিসিদের ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে চার দিনের সম্মেলন আজ শুরু মাঠ প্রশাসনকে সরকারের রূপরেখা দেবেন প্রধানমন্ত্রী; উদ্বোধন করবেন ওসমানী মিলনায়তনে

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

উন্নয়ন ও সংস্কারে ডিসিদের ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে চার দিনের সম্মেলন আজ শুরু  মাঠ প্রশাসনকে সরকারের রূপরেখা দেবেন প্রধানমন্ত্রী; উদ্বোধন করবেন ওসমানী মিলনায়তনে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

স্বৈরাচারী শাসন অবসানের পর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় উন্নয়ন ও সংস্কারকে মূল উপজীব্য করে আজ রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনের বার্ষিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। মাঠ প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের সামনে সরকার পরিচালনার দর্শন ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরাই এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

৩০ অধিবেশনে সরব মাঠ প্রশাসন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে জনসেবা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংস্কারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। চার দিনে ৩০টি অধিবেশনের মাধ্যমে ডিসিরা ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন।

সরকারের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের কাজের সমন্বয় ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার সম্মেলনের সময়সীমা আগের বছরের তুলনায় এক দিন বাড়ানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে থাকছে রাষ্ট্রপ্রধান ও সাংবিধানিক প্রধানদের সাথে বৈঠক সম্মেলনের অংশ হিসেবে ডিসিরা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন।আজ রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। আগামীকাল সোমবার জাতীয় সংসদ চত্বরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করনে। এছাড়া, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর কাছ থেকে নির্দেশনা গ্রহণ।

কৃচ্ছ্রসাধনে কাটছাঁট বাজেট

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের সম্মেলনে কৃচ্ছ্রসাধনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, গত বছর বাজেটের চেয়ে অনেক কম খরচে সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও খরচ হয়েছিল ১ কোটি ২ লাখ টাকা। এবার পুরো সম্মেলনের বাজেট ধরা হয়েছে মাত্র ৭১ লাখ টাকা। কেবল জরুরি ও অপরিহার্য খাত ছাড়া বাড়তি কোনো ব্যয় করা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যখাত অগ্রাধিকার, প্রস্তাবের ছড়াছড়ি

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগসংক্রান্ত প্রস্তাব সবচেয়ে বেশি (৪৪টি)। এর পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘব ও আধুনিকায়নে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব এসেছে:

শিল্পায়ন: গাজীপুরে ইকোনমিক জোন স্থাপন করে কারখানাসমূহকে নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তর।

স্বাস্থ্যসেবা: উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সংস্কার, জনবল নিয়োগ ও হাসপাতালগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানসম্মত প্ল্যান্ট স্থাপন।

 শিক্ষা: কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান: নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, কৃষি খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

পূর্ববর্তী সাফল্যের পর্যালোচনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের ডিসি সম্মেলনে গৃহীত ৪০০টি প্রস্তাবের মধ্যে আশাব্যঞ্জক বাস্তবায়ন হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ৬১ শতাংশ, মধ্যমেয়াদি ৩৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি ১৬ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। গণতান্ত্রিক সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের এই সেতুবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

Advertisement
Advertisement
Advertisement