এনসিপি-এবি পার্টি: গুঞ্জনের মাঝেও একীভূতকরণে অনিশ্চয়তা

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

এনসিপি-এবি পার্টি: গুঞ্জনের মাঝেও একীভূতকরণে অনিশ্চয়তা

​নিজস্ব প্রতিবেদক:

একই জোটে থাকা, একে অপরের সঙ্গে আদর্শিক মিল, আর এবি পার্টি থেকে এনসিপিতে নেতাদের যোগদান—এসবের মধ্যেই জোরালো হয়েছে দুই দলের একীভূত হওয়ার গুঞ্জন। কিন্তু প্রকাশ্য বক্তব্যে এখনো এমন কোনো আনুষ্ঠানিক রোডম্যাপ বা সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মেলেনি। 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আর আমার বাংলাদেশ পার্টি বা এবি পার্টি—দুই দলের সম্পর্ক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদর্শগত ঘনিষ্ঠতা, একই জোটে অবস্থান এবং এক দলের একাধিক নেতার অন্য দলে যোগদানের ঘটনাই এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি একীভূতকরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গড়িয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। 

বছর শেষের দিকে, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর, এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট সংস্কার আন্দোলন একসঙ্গে “গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট” গঠন করে। ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা তখন স্পষ্ট করে জানান, এটি শুধু নির্বাচনী নয়, রাজনৈতিক ঐক্যেরও একটি উদ্যোগ।  সেই ঘোষণাকে ঘিরে তখনই ধারণা তৈরি হয়, নতুন জোট ভবিষ্যতে আরও বড় প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে পারে। কিন্তু জোট আর একীভূতকরণ এক জিনিস নয়—এখানেই মূল পার্থক্য।

সাম্প্রতিক সময়ে সেই আলোচনা আরও ঘনীভূত হয়, যখন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন দল থেকে আরও কিছু নেতা “পাইপলাইনে” আছেন। ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, এবি পার্টি, ইউপি বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে ৩০-এর বেশি নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দেন।  এই প্রবণতা থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে যোগদান, নাকি শেষ পর্যন্ত দলগত বিলয়ের দিকেই যাচ্ছে দুই পক্ষ।

তবে এবি পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া পরিষ্কারভাবে বলেছেন, দলটির আদর্শগত মিল থাকলেও আপাতত তারা নিজেদের সংগঠন নিয়েই এগোতে চান। অর্থাৎ, একীভূত হওয়ার গুঞ্জনকে তারা এখনই বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন না।  রাজনৈতিক সূত্রগুলোও বলছে, আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কিন্তু ভেতরে-বাইরে এখনো এমন কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি যা দিয়ে একীভূতকরণ ঘোষণা করা যায়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবি পার্টি নির্বাচনমুখী সমীকরণে চাপের মুখে আছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনী পর্বে এনসিপি তুলনামূলক সাফল্য পেলেও এবি পার্টি সে ধরনের অর্জন দেখাতে পারেনি, আর এ কারণেই দলটির ভেতরে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে।  অন্যদিকে এনসিপি নিজেদের বিস্তারের জন্য জোট, মেরুকরণ এবং নতুন মুখ টানার পথে এগোচ্ছে। ফলে দুই দলের সম্পর্ক এখন এক ধরনের “সহযাত্রী” অবস্থানে—যেখানে কাছাকাছি থাকা আছে, কিন্তু এক হয়ে যাওয়া এখনো নিশ্চিত নয়। 

সব মিলিয়ে, এনসিপি-এবি পার্টি একীভূত হচ্ছে—এমন খবর এখনো গুঞ্জনের স্তরেই রয়ে গেছে। জোট আছে, আদর্শিক মিল আছে, নেতা আসা-যাওয়াও আছে; কিন্তু দল বিলুপ্ত করে এক ছাতার নিচে আসার প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement