আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে উদযাপন, সরকারি র‍্যালি-সভায় মন্ত্রীদের অংশগ্রহণ

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে উদযাপন, সরকারি র‍্যালি-সভায় মন্ত্রীদের অংশগ্রহণ

​নিজস্ব প্রতিবেদক:

 প্রতি বছরের মতো আজ ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। এবছরের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় অফিসার্স ক্লাব থেকে তথ্য ভবন কমপ্লেক্স পর্যন্ত র‍্যালি বের হবে, তারপর সাড়ে ৯টায় সার্কিট হাউজ রোডের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এবং বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।


গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকেও দিবসটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জার্নালিস্ট ইউনিয়ন (বাজু) এবং ঢাকা রেপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-র মতো সংগঠনগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ দিবস বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গত এক বছরে দেশে অন্তত ২০ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে।

দিবসটির ইতিহাস ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ থেকে শুরু। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এর লক্ষ্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা তুলে ধরা। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর এ দিনে স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা রক্ষা, সরকারি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ এবং দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের স্মরণ করা হয়। ইউনেস্কোর হিসাবে, গত দশকে বিশ্বে ১০০০-এর বেশি সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যার ৯০ শতাংশই দায়ীদের বিচার না হওয়ায় অবিচার চলতে থাকে।

বাংলাদেশে দিবসটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলেও বাস্তবে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ গণমাধ্যমের ভূমিকাকে জোর দেয়, যাতে সাংবাদিকরা শান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদান রাখতে পারেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেমন পাকিস্তান, ভারত ও মিয়ানমারে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা চলছে, তেমনি বাংলাদেশেও সবাই মিলে এই লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement