ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও দাবিসমূহ
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক শিক্ষককে কেন্দ্র করে উত্থাপিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ তুলে ধরেন এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করেন।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, বিলম্ব না করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্য বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য সচিবকে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্ব, প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং তথ্য সংরক্ষণসংক্রান্ত নানা অজুহাত তুলে ধরার বিষয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীরা নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগীর সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।