রাজশাহীর বাঘা মসজিদ ইতিহাস
অবস্থান:
রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায়, রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস: বাঘা মসজিদটি ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ কর্তৃক নির্মিত হয়। মসজিদটি হুসেন শাহী বংশের শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি বাংলার সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটির গম্বুজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য:
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২২.৯২ মিটার, প্রস্থ ১২.১৮ মিটার এবং উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি।
দেয়ালের পুরুত্ব ২.২২ মিটার।
মোট ১০টি গম্বুজ এবং ৪টি মিনার রয়েছে।
মসজিদের ভেতরে-বাইরে পোড়ামাটির কারুকাজে শোভিত মেহরাব ও স্তম্ভ রয়েছে।
মসজিদের পাশে রয়েছে একটি বৃহৎ দিঘি, যা শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত হয়।
সংলগ্ন স্থান: মসজিদের পাশে হজরত শাহদৌলা ও তার পাঁচ সঙ্গীর মাজার এবং একটি মহল পুকুর রয়েছে, যা একটি সুড়ঙ্গপথের মাধ্যমে অন্দরমহলের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
তথ্যসূত্র:
বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ
অবস্থান: বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে, বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস: ষাট গম্বুজ মসজিদটি ১৫শ শতাব্দীতে খান জাহান আলী কর্তৃক নির্মিত হয়। তিনি ছিলেন সুলতান নাসির আল-দীন মাহমুদ শাহের আমলে একজন প্রশাসক এবং ধর্মপ্রচারক। মসজিদটি তার প্রতিষ্ঠিত শহর খলিফাতাবাদে অবস্থিত।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য:
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৯ মিটার এবং প্রস্থ ৩৩ মিটার।
মোট ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে, যার মধ্যে ৬০টি প্রধান গম্বুজ এবং ১৭টি ছোট গম্বুজ।
মসজিদটির ১১টি দরজা এবং ৪টি মিনার রয়েছে।
মসজিদের দেয়ালে মুঘল ও তুর্কি স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব রয়েছে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: ষাট গম্বুজ মসজিদটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহৎ মসজিদ।
তথ্যসূত্র:
প্রবেশপথ ও মসজিদের কাঠামো
প্রবেশদ্বার:
মসজিদের পূর্ব পাশে ৫টি দরজা রয়েছে, যার মধ্যে মধ্যবর্তী দরজাটি প্রধান প্রবেশপথ। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ৪টি দরজা রয়েছে, তবে সেগুলো বর্তমানে বন্ধ।
গম্বুজ ও মিনার:
মসজিদটিতে মোট ১০টি গম্বুজ এবং ৪টি মিনার রয়েছে।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: মসজিদের দৈর্ঘ্য ২২.৯২ মিটার, প্রস্থ ১২.১৮ মিটার এবং উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেয়ালের পুরুত্ব ২.২২ মিটার। মসজিদের ভেতরে-বাইরে পোড়ামাটির কারুকাজে শোভিত মেহরাব ও স্তম্ভ রয়েছে।
সব থাকার স্থান
বাঘা উপজেলায় থাকার জন্য উন্নতমানের হোটেল বা গেস্টহাউসের সংখ্যা সীমিত। তাই রাজশাহী শহরে অবস্থান করাই উত্তম। নিচে কিছু সুপরিচিত হোটেলের তালিকা দেওয়া হলো:
1. বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মোটেল
অবস্থান: রাজশাহী চিড়িয়াখানার পাশে
রুম ভাড়া: সিঙ্গেল এসি রুম ১,৯০০ টাকা, ডাবল এসি রুম ২,৬০০ টাকা, সুইট ৪,৬০০ টাকা
যোগাযোগ: ০২-৮৮৩৩২২৯ (ঢাকা), ০৭২১-৭৭৫২৩৭ (রাজশাহী)
2. হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল
অবস্থান: গণকপাড়া
যোগাযোগ: ০৭২১-৭৭৬১৮৮
3. হোটেল মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল
অবস্থান: সাহেব বাজার
যোগাযোগ: ০৭২১-৭৭১১০০
4. হোটেল ডালাস ইন্টারন্যাশনাল
অবস্থান: বিন্দুর মোড়
যোগাযোগ: ০৭২১-৮৮১১৪৭০
5. হোটেল শুকরান
অবস্থান: মালোপাড়া
যোগাযোগ: ০৭২১-৭৭১৮১৭
এই হোটেলগুলিতে রুম ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে রাজশাহী:
বাস: ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর ও আব্দুল্লাহপুর বাস স্টেশন থেকে বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাস রাজশাহী যায়। ভাড়া ৭০০ থেকে ১,৪০০ টাকা।
ট্রেন: ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পদ্মা, বনলতা, ধূমকেতু ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী যাওয়া যায়। ভাড়া ৪৫০ টাকা থেকে ১,৫৪৭ টাকা।
বিমান: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা, বিমান বাংলাদেশ, নভোএয়ার এয়ারলাইন্সে রাজশাহী বিমানবন্দর যাওয়া যায়। ভাড়া ৪,২০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা।
রাজশাহী থেকে বাঘা:
বাস: রাজশাহী সদর বাস স্টেশন থেকে বাঘা যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। ভাড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
সিএনজি: সিএনজি রিজার্ভ করে বাঘা মসজিদ ভ্রমণে যেতে পারেন।
দর্শনার্থীদের জন্য সময়সূচী:
বাঘা মসজিদ প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, অর্থাৎ এটি সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
পরামর্শ
মসজিদটি একটি পবিত্র স্থান, তাই যথাযথ পোশাক পরিধান করুন এবং শালীন আচরণ বজায় রাখুন।
মসজিদ প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না।
মসজিদ সংলগ্ন শাহী দিঘি ও মাজার এলাকাও ঘুরে দেখতে পারেন।
প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের দিন থেকে ৩ দিন পর্যন্ত 'বাঘার মেলা' অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে।