হিন্দ রাজাবের ন্যায়বিচার নিয়ে আস্থা নেই দাদির

 প্রকাশ: ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হিন্দ রাজাবের ন্যায়বিচার নিয়ে আস্থা নেই দাদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের মৃত্যুর ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফৌজদারি তদন্ত শুরু করলেও দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন নিহত শিশুটির দাদি। পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজায় পরিবারের গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়।

হিন্দের সঙ্গে গাড়িতে থাকা তাঁর পরিবারের আরও ছয় সদস্যও নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে শিশুটির পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হিন্দের মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানোর বদলে তাঁর দাদি বলেছেন, ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁদের কোনো আস্থা নেই।

হিন্দের পরিবারের কাছে ঘটনাটি শুধু একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও তাদের মৃত্যুর জন্য জবাবদিহির বড় প্রশ্নও সামনে এনেছে।

হিন্দ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে ছিল। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যে গাড়িটি হামলার শিকার হয়। পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হওয়ার পর হিন্দ গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে যায়।

পরে জরুরি সহায়তার জন্য ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল সে। শিশুটির আতঙ্কিত কণ্ঠের রেকর্ড ও তার উদ্ধারের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত হিন্দকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ও মানবাধিকারকর্মীরা এ ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, হিন্দ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি প্রয়োজন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত আসায় ঘটনাটি আবারও সামনে এসেছে। তবে হিন্দের দাদি মনে করেন, ইসরায়েলের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা দিয়ে এই ঘটনার প্রকৃত বিচার পাওয়া কঠিন।

তাঁর বক্তব্যে পরিবারের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অবিশ্বাসই প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যে বাহিনীর অভিযানে হিন্দ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন, সেই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করতে পারবে?

হিন্দের মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হলেও এখন মূল নজর থাকবে তদন্তটি কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, তার ওপর।

হিন্দ রাজাবের ঘটনা গাজায় যুদ্ধের সময় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিও সামনে এনেছে। তাঁর পরিবার চায়, শুধু তদন্ত ঘোষণা নয়, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

হিন্দের দাদির বক্তব্য তাই শুধু একটি পরিবারের হতাশার প্রকাশ নয়; গাজায় নিহত বেসামরিক মানুষের ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কেরও প্রতিচ্ছবি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement