সাবেক সিরীয় সেনা কর্মকর্তাকে দামেস্কে ফেরত দিল লেবানন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তাঁর সরকারের একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে সিরিয়ার হাতে তুলে দিয়েছে লেবানন। হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর মেজর জেনারেল আদেল ঈসাকে দামেস্কের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে ঈসাকে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ‘বিলুপ্ত শাসকগোষ্ঠীর’ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আদেল ঈসাকে লেবাননের কর্তৃপক্ষ সিরীয় হেফাজতে দিয়েছে।
৬৭ বছর বয়সী ঈসা সিরীয় সেনাবাহিনীর ১৭তম ডিভিশনের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। পরে তিনি দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ-জোর প্রদেশে স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দেন।
সিরিয়ায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় তাঁর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, অপরাধ সংঘটনে সহায়তা, দুইয়ের বেশি মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপরাধ করার অভিযোগও রয়েছে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দামেস্কের একজন বিচারক প্রথমে তাঁর মামলাটি শুনবেন। এরপর প্রয়োজন হলে বিষয়টি ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হবে।
তবে ঈসা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তাঁর গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তি।
দূতাবাসে গিয়েই গ্রেপ্তার
গত ৮ আগস্ট বৈরুতে সিরীয় দূতাবাসে কাগজপত্রের কাজ শেষ করতে গেলে ঈসাকে আটক করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তারা লেবাননের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরকে জানান, সিরিয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা রয়েছে।
এরপর লেবাননের তদন্তকারীরা তাঁকে হেফাজতে নেন। পরে দামেস্কের কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়।আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির সাবেক সেনা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দামেস্ক কয়েক মাস ধরে লেবাননের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর বহু সাবেক সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা—যিনি আগে বিদ্রোহী নেতা ছিলেন—আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিরীয় কর্তৃপক্ষ লেবাননের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে ২০০-এর বেশি সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার একটি তালিকা দেয়। এসব কর্মকর্তাকে দামেস্কে খোঁজা হচ্ছিল।
আসাদেরও মৃত্যুদণ্ড
এর আগে চলতি মাসেই দামেস্কের একটি আদালত অনুপস্থিতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, বেআইনি আটক ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আসাদ বর্তমানে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় নির্বাসনে রয়েছেন।