শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ; বিভাগীয় কমিশনার
খুলনা ব্যুরো :
শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দ্বিতীয় বৈশ্বিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন সামনে রেখে খুলনায় বিভাগীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিশুদের জন্য সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশে শিশু ও নারীদের প্রতি সহিংসতা এবং ক্ষতিকর আচরণ প্রতিরোধ’ শীর্ষক প্রকল্পের (পিভিএইচপি) আওতায় ইউনিসেফের সহযোগিতায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এ সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন। তিনি বলেন, ‘শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’ আগামী নভেম্বরে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দ্বিতীয় বৈশ্বিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনের আগে এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় উঠে আসা কৌশলগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শিশুদের জন্য সহিংসতামুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ। বক্তব্য দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, ইউনিসেফের চাইল্ড প্রটেকশন সেকশনের প্রধান নেহা নাইডু এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সেলিনা আহমেদ।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিসেফ খুলনার চিফ মো. কাওসার হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুরাইয়া সিদ্দীকা।
প্রবন্ধে বলা হয়, শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দ্বিতীয় বৈশ্বিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় এক বিলিয়ন শিশু কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হয়। শিশুদের প্রতি সহিংসতার মধ্যে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বুলিং, যৌন সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, অবহেলা, শোষণ ও অনলাইন নির্যাতন।
বাংলাদেশের ২০২৫ সালের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের ৮৬ শতাংশ শিশু পরিবারে শারীরিক বা মানসিক সহিংসতার শিকার হয়। ১৮ বছর বয়সের আগেই ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহ হয়। ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশু শিশুশ্রমের সঙ্গে যুক্ত, যার একটি বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ শিশু গুরুতর সহিংসতার কারণে মারা যায়। এ ছাড়া প্রতিবছর প্রায় ১৪ হাজার ২৬৯ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্মনিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশ।
খুলনা বিভাগের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়, এ বিভাগের ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু পরিবারে শারীরিক বা মানসিক সহিংসতার শিকার হয়। বাল্যবিবাহের হার ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্মনিবন্ধনের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বিভাগে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার ৪২ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।
পরামর্শ সভায় বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্কুলশিক্ষক, পুরোহিত, এনজিও প্রতিনিধি এবং শিশু-কিশোরেরা অংশ নেন। সভায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সহিংসতার ঝুঁকি কমানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।