রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘাত: আরএসও-এআরএ দ্বন্দ্বে ঝরল আরও এক প্রাণ

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘাত: আরএসও-এআরএ দ্বন্দ্বে ঝরল আরও এক প্রাণ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া | প্রকাশ: ০৬ মে, ২০২৬

​কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এখন প্রকাশ্য ও প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যাম্পের অলিগলি কেঁপে উঠেছে উপর্যুপরি গুলির শব্দে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক কমান্ডারের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার দুপুরে পুনরায় রক্ত ঝরল উখিয়ায়। এবারের শিকার খোদ আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) শীর্ষ নেতা নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল।

​ঘটনার বিবরণ ও নেপথ্য সংঘাত

বুধবার তপ্ত দুপুরে যখন উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্টের জনজীবন স্বাভাবিক ছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্যমতে, জোহরের নামাজ আদায় করে বাজার এলাকায় যাওয়ার পথে অতর্কিত হামলার শিকার হন কামাল। নিহতের চাচাতো ভাই আয়ুব হোসেন দাবি করেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) একদল ক্যাডার পরিকল্পিতভাবে কামালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ১২-১৩ জন সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​চিকিৎসকের বক্তব্য ও উদ্ধার তৎপরতা

গুলির শব্দে ক্যাম্প এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় কামালকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, কামালের মাথায় ও বুকে গুলির চিহ্ন ছিল। বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

​২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া প্রাণহানি

উখিয়ার এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় শুরু হয় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে। ক্যাম্প-৮ ইস্ট ও ক্যাম্প-৭ এর মধ্যবর্তী তারজার ব্রিজ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় প্রাণ হারান রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ এআরও-এর কমান্ডার কেফায়েত উল্লাহ হালিম। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই কামালের মৃত্যুতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আধিপত্য বিস্তারের এই চোরাগোপ্তা হামলা ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পজুড়ে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement