চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক
খুলনা ব্যুরো :
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সংক্রান্ত খবর জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসন তদন্তে নেমেছে এবং পূর্বের সুপারিশ বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৫ অনুযায়ী চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সার ডিলার নিয়োগের জন্য দুটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। তবে অভিযোগ ওঠে, নীতিমালা অনুসরণ না করে গত ২৭ নভেম্বর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সিফাত-আল-মারুফ এককভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সুপারিশ দেন, যা কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করেই করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে চিতলমারী বাজারের বিএডিসি সার ডিলার ‘মের্সাস শেখ ব্রাদার্স’-এর মালিক মো. ফেরদাউস শেখ জেলা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি ৯ ও ১০ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
সংবাদ প্রকাশের পর চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন পূর্বের সুপারিশ স্থগিত করেন এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিলেও ১১ ডিসেম্বরের নতুন রেজুলেশনে কাউকে ডিলার হিসেবে সুপারিশ করা হয়নি।
এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় কৃষকদের একাংশ দাবি করেছেন, নতুন নীতিমালার আওতায় সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সামাজিক আচরণ ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে অভিযোগকারী মো. ফেরদাউস শেখ বলেন, তদন্তে তার গুদাম ও অবকাঠামো যোগ্য প্রমাণিত হলেও তাকে সুপারিশ না করায় কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক জীবন হাজরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে কথা কাটাকাটি হলেও তিনি কখনো অসদাচরণ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি না হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তদন্ত প্রতিবেদনসহ রেজুলেশন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জেলা প্রশাসন।