সংবাদ শিরোনাম

ভেপিংয়ে শক্তিশালী সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েডের বিস্তার, জনস্বাস্থ্যকে শঙ্কিত করছে

 প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৯ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

ভেপিংয়ে শক্তিশালী সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েডের বিস্তার, জনস্বাস্থ্যকে শঙ্কিত করছে

খুলনা ব্যুরো :

সম্প্রতি বাংলাদেশে ই-সিগারেট বা ভেপিং ডিভাইসের মাধ্যমে MDMB-4en-PINACA নামের শক্তিশালী সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েডের বিস্তার দেখা গেছে। এই পদার্থটি সাধারণ গাঁজা বা প্রাকৃতিক ক্যানাবিস নয়, বরং ল্যাবে তৈরি এক রাসায়নিক যৌগ, যা অল্প মাত্রাতেও তীব্র সাইকোঅ্যাকটিভ প্রতিক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নতুন নেশাজাতীয় পদার্থকে “নীরব মাদক মহামারি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সরকারি ও আন্তর্জাতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, MDMB-4en-PINACA একটি Synthetic Cannabinoid Receptor Agonist (SCRA), যা মানব মস্তিষ্কের CB₁ রিসেপ্টরের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা উদ্বেগ, বিভ্রম, হ্যালুসিনেশন, আচরণগত অস্বাভাবিকতা, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, খিঁচুনি এমনকি আকস্মিক মৃত্যুর মতো গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদেও মানসিক সমস্যা বা সাইকোসিসের ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেপিং ডিভাইসকে এই পদার্থের বাহন হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ভেপিং লিকুইড স্বচ্ছ ও সুগন্ধিযুক্ত হওয়ায় রাসায়নিক মিশানো সহজ এবং ব্যবহারকারী প্রায় শনাক্ত করতে পারে না। পাশাপাশি, ই-সিগারেট এখনও অনেকের কাছে “কম ক্ষতিকর” বা ধূমপানের বিকল্প হিসেবে পরিচিত। এই ভুল ধারণাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধচক্র তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সরকারি অভিযানে উদ্ধারকৃত কিছু ভেপিং কার্ট্রিজ ও লিকুইডের উৎস মূলত বিদেশ, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ। আন্তর্জাতিক মাদক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েডের উৎপাদন ও পাচার নেটওয়ার্ক অত্যন্ত গতিশীল এবং নিয়মিত রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে আইন ফাঁকি দেয়।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য, অপরাধপ্রবণতা ও তরুণ প্রজন্মের উৎপাদনশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ই-সিগারেটের ব্যবহার বেড়েছে এবং তরুণদের মধ্যে এই ধরনের নেশাজাতীয় পদার্থ সহজলভ্য হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা দ্রুত পদক্ষেপের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্য খাতের সমন্বিত উদ্যোগে ভেপিং লিকুইড পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং চিকিৎসকদের জন্য সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েড বিষক্রিয়া শনাক্ত ও চিকিৎসার নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা।

তাদের মতে, ভেপিংয়ের আড়ালে সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েডের বিস্তার নিছক একটি মাদক সমস্যা নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকেত। আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং সাম্প্রতিক উদ্ধার তথ্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এখনই কার্যকর নীতি, আইন এবং সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এই নীরব বিপদ প্রতিরোধ করা সম্ভব।