সাতক্ষীরায় ডিবির মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ বোতল উইন কোরেক্সসহ একজন গ্রেপ্তার
আল মামুন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ বোতল কোডিনযুক্ত মাদকদ্রব্য ‘উইন কোরেক্স’সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল, বিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নিজাম উদ্দীন মোল্যার নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ মিনাজ উদ্দীন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত ৮টা ৫ মিনিটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে কলারোয়া থানাধীন চন্দনপুর এলাকার ইটভাটার মোড় সংলগ্ন মোঃ সেতু’র মুদি দোকানের সামনে থেকে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যশোর জেলার শার্শা থানার রুদ্রপুর গ্রামের মৃত মোসলেম কাজীর ছেলে।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৫০ বোতল কোডিনযুক্ত মাদক ‘উইন কোরেক্স’ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত ‘উইন কোরেক্স’ একটি কোডিনযুক্ত সিরাপ, যা মূলত চিকিৎসার কাজে সীমিত মাত্রায় ব্যবহারের কথা থাকলেও মাদক হিসেবে অপব্যবহার করা হলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। নিয়মিত সেবনে এই মাদক মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে তোলে এবং তীব্র নেশার সৃষ্টি করে।
চিকিৎসকদের মতে, কোডিনযুক্ত মাদক দীর্ঘদিন সেবনের ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়, হঠাৎ শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হয়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে।
এই ধরনের মাদক গ্রহণে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি দ্রুত তৈরি হয়, যার ফলে পড়াশোনা, কাজকর্ম ও সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক সময় তারা চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যা পরিবার ও সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কোডিনযুক্ত সিরাপ অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে হঠাৎ অচেতন হয়ে যাওয়া, বমি, খিঁচুনি এমনকি হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই এই মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।