সাদপন্থীদের খুলনা ইজতেমা বর্জনের আহবান হেফাজত–ইমাম পরিষদসহ আলেমসমাজের সংবাদ সম্মেলন**
খুলনা ব্যুরো :
তাবলীগ জামাতের সাদপন্থীদের আয়োজিত তথাকথিত ‘খুলনা বিভাগীয় ইজতেমা’ বর্জনের আহবান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম, জেলা ইমাম পরিষদ ও খুলনার শীর্ষ আলেম–ওলামা। ৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে খুলনার সাধারণ মুসলমানদের প্রতি ইজতেমাটি থেকে দূরে থাকার আহবান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় শতবর্ষ ধরে তাবলীগ জামাত কুরআন–সুন্নাহভিত্তিক দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা মূলধারার ওলামায়ে কেরামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছে। কিন্তু এর মাঝেই দিল্লিভিত্তিক সাদপন্থী নামে একটি ভ্রান্ত ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বিকৃত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পবিত্র কুরআন–সুন্নাহর মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়া, নবী–রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামের শানে অবমাননাকর মন্তব্য এবং শরীয়তের বহু মূলনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাবলীগের দাওয়াতি কাজের ভেতর বিভক্তি, বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
আলেমরা বলেন, সাদপন্থীদের বিষয়ে দেশের বরেণ্য আলেমদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওলামায়ে কেরামও গোমরাহি–সংক্রান্ত ফতোয়া দিয়েছেন। জাতীয় মসজিদ বাইতুল মুকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেকসহ শীর্ষ আলেমরা এই গোষ্ঠীকে ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্যুত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার মাঠে সাদপন্থীদের কারণে একাধিকবার রক্তপাত, হামলা ও হতাহতের ঘটনার কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। অভিযোগ করা হয়, এসব বিশৃঙ্খলার পর সরকার বাধ্য হয়ে টঙ্গী ময়দান ও কাকরাইল মারকাজ হক্কানি আলেমদের তত্ত্বাবধানে প্রদান করে। বক্তারা বলেন, তবুও সাদপন্থীরা বিভিন্ন স্থানে ইজতেমার আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত ও মূলধারা থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। খুলনার আসন্ন তথাকথিত বিভাগীয় ইজতেমাও সেই ধারাবাহিকতা।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, খুলনার কোনো আলেমসমাজ, ইমাম পরিষদ বা তাবলীগ জামাতের মূলধারার সাথীদের সঙ্গে উক্ত ইজতেমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এতে অংশ না নেওয়ার আহবান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সালেহের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুশতাক আহমদ, মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা নাছির উদ্দিন কাসেমী, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি রুহুল আমীন ও মুফতি আব্দুল্লাহ মুখতার প্রমুখ।