সংবাদ শিরোনাম

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী—গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের এক আলোকবর্তিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

 প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী—গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের এক আলোকবর্তিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পক্ষে অক্লান্তভাবে লড়ে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতিচারণের আবহে পালিত হলো।
২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সাদা মন, সহজ-সরল আচরণ ও ন্যায়নিষ্ঠ অবস্থানের কারণে সর্বমহলে তিনি ছিলেন শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় এক মানুষ।

সকালে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়। বড় ছেলে জাবেদ হোসেন, ছোট ছেলে ও দৈনিক দ্য নিউ নেশন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরশাদ হোসেন, ভাগ্নে মহিবুল আহসান, নাতনি আরিশা হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাকদ্য নিউ নেশন-এর সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত হয়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

বাদ জোহর ইত্তেফাক ভবনের মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল। এতে অংশ নেন তাঁর দুই পুত্র জাবেদ হোসেন ও আরশাদ হোসেন, দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সম্পাদক সালাউদ্দিন মো. বাবর, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও আইনজীবীরা। সবাই মরহুমের আত্মার শান্তি ও মর্যাদা কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।


ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ছিলেন কিংবদন্তি সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ নেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন গণমাধ্যমকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৭৩ সালে পিরোজপুর থেকে প্রথম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হওয়া এই জননেতা ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর গণতন্ত্রের স্বার্থে সংসদ সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে দুর্লভ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন-বিচার, গৃহায়ণ-গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি দক্ষতা ও সততার সঙ্গে পালন করেন।
আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট–সিনেট সদস্য এবং বহু সাংবিধানিক মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে তাঁর অবদান ব্যাপকভাবে সমাদৃত। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণেও ছিল তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা।

আজীবন তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন অটল। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন জাতির বিবেক হিসেবে।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কর্মময় জীবন বাংলাদেশের আইন, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। সত্যনিষ্ঠা, সাহস, নীতিবোধ ও মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন—তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।