সংবাদ শিরোনাম

চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

 প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন   |   জেলার খবর

চিতলমারীতে সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

খুলনা ব্যুরো :

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা ভঙ্গ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৫ অনুসরণ না করে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ডিলার হিসেবে মের্সাস হাজরা ট্রেডার্স–কে সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কোনো সভাই অনুষ্ঠিত হয়নি।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে মের্সাস শেখ ব্রাদার্স–এর মালিক মোঃ ফেরদাউস শেখ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এবং উপজেলা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগে বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী নিজের গুদামের আয়তন, পুরোনো অভিজ্ঞতা ও ব্যবসার পরিধির দিক থেকে আমি সবদিকেই এগিয়ে ছিলাম। তারপরও সভা না করে হাজরা ট্রেডার্সকে সুপারিশ করা হয়েছে।

ফেরদাউস শেখ আরও অভিযোগ করেন, হাজরা ট্রেডার্সের মালিক জীবন হাজরার বিরুদ্ধে পূর্বে সার কালোবাজারি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ছিল। তার ভাষ্য, “একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে পুনরায় সুপারিশ করায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন।

অন্যদিকে মের্সাস হাজরা ট্রেডার্সের মালিক জীবন হাজরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কখনোই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। সবসময় নিয়ম মেনে ব্যবসা করে আসছি।

চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাওহিদুর রহমান বলেন, “মনিটরিং কমিটির সভা ছাড়াই ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই জানেন না।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শংকর মজুমদার জানান, অফিসের নির্দেশে তারা দুই প্রতিষ্ঠানের গুদাম পরিমাপ করেন। তাদের প্রতিবেদনে শেখ ব্রাদার্সের গুদাম ২৫ হাজার বর্গফুট এবং হাজরা ট্রেডার্সের ১৫ হাজার বর্গফুট পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “আমরা শুধু মাপজোখ করে প্রতিবেদন দিয়েছি।

চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত আল মারুফ বলেন, “মনিটরিং কমিটির সভা ডাকলে কোরাম পূরণ হয় না। তাই মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপনের পর হাজরা ট্রেডার্সকে সুপারিশ করা হয়েছে। 

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা থেকে তদন্ত টিম এসে তদন্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা পুনরায় বসে সিদ্ধান্ত নেব।