আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে কলারোয়ার ঐতিহ্যবাহী টালি শিল্প
মাসুদ আল হাসান, ব্যুরো প্রধান :
এক সময় কলারোয়ার টালি শিল্প ছিলো ঐতিহ্যের প্রতীক। এখানকার তৈরি টালি যেত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়িয়ে বিদেশেও ইতালি, মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে। রপ্তানি করে দেশে আসত বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু আধুনিকতার ঢেউ, বিকল্প নির্মাণসামগ্রীর আগমন ও উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে আজ প্রায় বিলীন এই শিল্প।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় কলারোয়া পৌর এলাকায় ছিল ৪১টি টালি কারখানা। প্রতিটি কারখানায় শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হতো। কিন্তু বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৭টি কারখানা। বাকি সব বন্ধ হয়ে গেছে লোকসান ও চাহিদা কমে যাওয়ায়।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, এক সময় যে টালি গ্রামের ঘরবাড়ির সৌন্দর্য বাড়াত, এখন সেখানে ইট, সিমেন্ট ও রডের কংক্রিট ছাদ স্থান নিয়েছে। ফলে টালির চাহিদা হ্রাস পেয়ে শিল্পটি ধ্বংসের পথে।
কারখানা মালিকদের অভিযোগ, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে কয়েকগুণ, কিন্তু টালির দাম প্রায় অপরিবর্তিত। একের পর এক লোকসান গুনতে হচ্ছে। কেউ কেউ দেউলিয়া হয়ে কারখানা বিক্রি করেছেন, কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
কলারোয়া টালি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোষ্ট চন্দ্র পাল বলেন,আগে প্রতি মৌসুমে কয়েক লাখ টালি বিক্রি করতাম। এখন বিক্রি হয় না বললেই চলে। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু বাজার নেই। সরকারি ঋণ ও বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিলে এই শিল্প আবার টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, সরকার ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরো বলেন ,টালি কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল মনে করছেন, সময়মতো সরকারি সহযোগিতা, প্রণোদনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এটি শুধু কর্মসংস্থান নয়, দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।