কেডিএর ময়ূরী প্রকল্পে ‘প্লট সিন্ডিকেট’—মন্ত্রী-এমপি-কর্মকর্তার ভাগবাটোয়ারা” গণবিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৪৭টি প্লট বরাদ্দ,তদন্তে নীরব কেডিএ”
খুলনা জেলা প্রতিনিধি :
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পে আওয়ামী লীগ নেতা, মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্লট বণ্টনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সংরক্ষিত কোটার নামে ২০২০ ও ২০২২ সালে কোনো ধরনের গণবিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কোটি টাকার ৪৭টি প্লট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম দফায় খুলনার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের এমপি, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদসহ আওয়ামী লীগের ৭৯ জন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা প্লট্ পান। অনিয়মের মাধ্যমে পাওয়া এসব প্লটের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তবে নিয়ম না মানায় সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও সাবেক এমপি গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণার প্লট বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে কেডিএ। নাগরিক সমাজের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বাঁচাতে কেবল অপ্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেডিএর রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পে প্লট বিক্রির আবেদন আহ্বান করা হয়। মোট ২,৩৬০টি আবেদন জমা পড়ে এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৬২৯টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের অবকাঠামো কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২০ সালে ফাঁকা পাওয়া প্লটগুলো নিয়ম ভেঙে সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ভাগ করা হয়।
কেডিএর তৎকালীন পরিচালক ড. শাহানুর আলম ও পরিচালক (এস্টেট) ছাদেকুর রহমানের নেতৃত্বে এসব বরাদ্দে মূল ভূমিকা রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি, প্রয়াত এমপি মোস্তফা রশিদী সুজা, খুলনা সিটি করপোরেশনের অপসারিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন।
প্লট বণ্টনের নিয়ম পরিবর্তন ও কর্মকর্তাদের জন্য কম মূল্যে জমি বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য কাঠাপ্রতি দর ছিল ৯ লাখ টাকা, কিন্তু কেডিএ কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্যদের জন্য তা নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৫ লাখ টাকা।
খুলনার নাগরিক নেতারা বলেছেন, জনগণের টাকায় নির্মিত প্রকল্পে এ ধরনের লুটপাট প্রশাসনিক দুর্নীতির চরম উদাহরণ। তারা অবিলম্বে অনিয়মের মাধ্যমে পাওয়া সব প্লট বাতিল ও জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন।