ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানি শুরু, ওপারে মাইলের পর মাইল ট্রাকজট

 প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন   |   রংপুর

ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানি শুরু, ওপারে মাইলের পর মাইল ট্রাকজট

​বিশেষ প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদ-উল-আজহার টানা সাত দিনের ছুটির অবসান ঘটিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে আবারও শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টা থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল হয়। দীর্ঘ বিরতির পর বন্দরে চাকা ঘুরলেও, প্রথম দিনে স্বাভাবিক গতি ফিরতে কিছুটা সময় লাগছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আমেজ কাটিয়ে বন্দর পুরোপুরি কর্মচঞ্চল হয়ে উঠতে আরও দিনদুয়েক সময় লেগে যেতে পারে। তবে দীর্ঘ ছুটির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সীমান্তের ওপারে, যেখানে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি এক প্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।

​টানা এক সপ্তাহ দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় তীব্র ট্রাকজট দেখা দিয়েছে। বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ওপারে থাকা সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক এখন আটকা পড়ে আছে। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী ওপার থেকে জানান, পণ্যবাহী হাজারেরও বেশি ট্রাক পেট্রাপোল কালিতলা পার্কিং, সেন্ট্রাল পার্কিং, বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল এবং এমনকি বনগাঁর প্রধান সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে আছে। তীব্র গরমে সেখানে চালক ও সহকারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ, আর আমদানিকারকদের বাড়ছে ডেমারেজ বা বিলম্ব মাশুলের লোকসান। ওপারে আটকে থাকা এসব পণ্যের একটি বড় অংশই পচনশীল খাদ্যদ্রব্য এবং বাংলাদেশের শিল্প-কারখানার জরুরি কাঁচামাল।

​এদিকে সোমবার সকাল থেকেই বেনাপোল শুল্ক ভবনের চেকপোস্ট কার্গো শাখায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলেও শুরুর দিকে গতি কিছুটা মন্থর রয়েছে। তবে ওপারে আটকে থাকা জট কমাতে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই কার্যক্রম শতভাগ পুরোদমে চালু হবে।

​ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শিল্প-প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ এবং বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য এই বেনাপোল বন্দর দিয়েই আমদানি করা হয়। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি এই ধীরগতির কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, দেশের বেশিরভাগ বড় আমদানিকারক ও শিল্পপতিরা ঈদের ছুটি কাটাতে এখনও গ্রামে অবস্থান করছেন। ঢাকার প্রধান কার্যালয়গুলো পুরোপুরি না খোলায় এবং ব্যাংকিং আনুষ্ঠানিকতা ধীরগতির হওয়ায় বন্দর থেকে পণ্য খালাস বা ডেলিভারি নেওয়ার হার প্রথম দিনে কিছুটা কম। ফলে ওপার থেকে ট্রাক ঢুকলেও এপারে পণ্য খালাসের গতি না বাড়লে বন্দর অভ্যন্তরে জায়গার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

​বাণিজ্যিক এই চাপ সামাল দিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. শামিম হোসেন সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বন্দরে কাজ শুরু হয়েছে। তবে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে বন্দরের ভেতরের শেড ও ওপেন ইয়ার্ডে পণ্য ওঠানামার কাজে যুক্ত হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা প্রচণ্ড হিমশিম খাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও ভারতের পেট্রাপোলে সৃষ্ট পণ্যজট দ্রুত কমিয়ে আনতে এবং দেশের বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে বন্দরের এই সাময়িক স্থবিরতা কেটে গিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে আশা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট সকলে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement