সুন্দরগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মা-মেয়ের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ
শামীম পারভেজ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক সর্বানন্দ গ্রামে এক নারী ও তার মায়ের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ গ্রামের মোছা. আশা মনি তার মা মোছা. রাশেদা বেগমের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় একই গ্রামের খোরশেদ আলম, মজনু মিয়া, মরিয়ম বেগম ও মধু মিয়াকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান অভিযুক্ত খোরশেদ আলম, রাশেদা বেগমকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার সম্পর্কে এলাকায় অপপ্রচার চালাতে থাকেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৩০ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে রাশেদা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হাতুড়ির আঘাতে তার ডান চোয়ালে গুরুতর জখম হয়। একই সঙ্গে তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার করে।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অভিযোগকারী আশা মনিকেও মারধর করা হয়। তার কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি গলা চেপে হত্যার চেষ্টা এবং হাতুড়ি দিয়ে পিঠে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া তার গলায় থাকা প্রায় ৬ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেন।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে আহত দুই নারীকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অভিযোগকারী থানায় এজাহার দায়ের করেন।
সর্বানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি এলাকায় যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন আমানুল্লাহ বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।