সুন্দরগঞ্জে আপোষনামা ভঙ্গের অভিযোগে পুনরায় পৈতৃক জমির দখল
শামীম পারভেজ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে সম্পাদিত আপোষনামা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পুনরায় জমি ও গোডাউন ঘরের দখল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ছাপরহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ মরুয়াদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু হেনার পিতা মরহুম আবুল কাশেমের সঙ্গে তাঁর ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। পরিবারের দাবি, এসব বিরোধের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আবুল কাশেম গত বছরের আগস্ট মাসে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।বাবার মৃত্যুর পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২০ আগস্ট ২০২৫ সালে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি আপোষনামা সম্পাদিত হয়। আপোষনামা অনুযায়ী, ৬ শতক জমি ও একটি গোডাউন ঘরের বিনিময়ে মরহুম আবুল কাশেমের পরিবারকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে সময় ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা ছয় মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও বাকি অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন না করে আবু হেনার চাচা আবু সাঈদ চৌধুরী ও জ্যাঠা আবু বক্কর সিদ্দিক স্থানীয় শালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আবু হেনা পুনরায় পৈতৃক জমি ও গোডাউন ঘরের দখল নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মান্নান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আপোষনামা করা হয়। কিন্তু সেই চুক্তির শর্ত মানা হয়নি। তাই স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে আবু হেনাকে তাঁর পৈতৃক জমি ও গোডাউন ঘর ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবু হেনা বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধের পর স্থানীয়ভাবে আপোষনামা হয়েছিল। সেখানে ৬ শতক জমি ও গোডাউন ঘরের বিনিময়ে আমাদের পরিবারকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ছয় মাসের পরিবর্তে প্রায় এক বছর পার হলেও বাকি টাকা দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজের পৈতৃক জমি ও গোডাউন ঘর পুনরায় নিজ দখলে নিয়েছি।
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবু সাঈদ চৌধুরী ও আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।