বিপিএল আয়োজন নিয়ে বিসিবির বিকল্প ভাবনা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট মানেই নানা সমালোচনায় ভরপুর এক টুর্নামেন্ট। এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত একটি কাঠামোর ওপর দাড় করানো সম্ভব হয়নি ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক এই আসরটি। আর এদিকে দিনে দিনে জনপ্রিয়তা আর সবকিছুর মাপকাঠি বিবেচনায় পিছিয়ে পড়ছে। এখন বিশে^র সেরা পাচঁটি আসরের মধ্যেও নেই বিপিএল। তাইতো এই আসরটি আয়োজনে নতুন করে ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর তাতে আসতে পারে বিকল্প কিংবা নতুন কোন সিদ্বান্ত। নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকায় বিপিএল নিয়ে নতুন করে ভাবছে বিসিবি। বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। একের পর এক বিতর্ক, স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতা ও অপেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজির কারণে বিপিএল নিয়ে নতুন করে ভাবছে বিসিবি। এমতাবস্থায় বিপিএল নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে সংস্থাটি। আপাতত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকে সরে আসার কথা ভাবছে বোর্ড। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া আর আসরটি আয়োজন করতে অনাগ্রহী তারা।
বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডের বেশিরভাগ পরিচালক মনে করেন, বর্তমান কাঠামোয় বিপিএল চালিয়ে গেলে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আগে সব সমস্যার সমাধান, এরপরই কেবল নতুনভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতি আসরেই স্পট ফিক্সিং, খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক, ফ্র্যাঞ্চাইজির অনিয়ম এবং বোর্ডের সাথে টানাপোড়েনের মতো নানা বিতর্কে জড়িয়েছে বিপিএল। এসব কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও টুর্নামেন্টটির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। বিসিবির ভাবনায় রয়েছে দুটি বিকল্প। প্রথমটি হলো, চলতি বছরের বিপিএল স্থগিত রেখে যোগ্য ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে ভবিষ্যতে নতুনভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করা। এ সময় খেলোয়াড়দের ব্যস্ত রাখতে এনসিএল টি-টোয়েন্টি বা অন্য কোনো ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আছে ‘বিপিএল’ নামটিই বাদ দেওয়া। বোর্ডের একটি অংশের মতে, এই ব্র্যান্ডের সাথে ইতোমধ্যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি জড়িয়ে গেছে। তাই নতুন নামে ও নতুন কাঠামোয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ শুরু করা হতে পারে।
বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সময় ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ না করায় সেই দায়ও শেষ পর্যন্ত বোর্ডকেই নিতে হয়। সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় হওয়া অর্থের বড় অংশ আবার ব্যয় হয়ে যায় আয়োজনের খরচে। ফলে টুর্নামেন্টটি আর্থিকভাবেও লাভজনক নয়। এই অবস্থাতেও অবশ্য বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা এখনো আশাবাদী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওয়া গেলে এবারো বিপিএল আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে এক মৌসুম বিরতি দেয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। যদিও টুর্নামেন্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি একমত নন। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির বৈঠকে বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে বিসিবির আজব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অধিনায়ক ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকা গেলো ইমার্জিং দল। আগামী আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ১৩ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। আর দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে ২২ আগস্ট।
প্রায় একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল, ইমার্জিং দল ও হাই পারফরম্যান্স ইউনিট। সবার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ৫টি ওয়ানডে আর দুটি ৪ দিনের ম্যাচ খেলতে গেল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। ২৭ জুলাই প্রিটোরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছে ইমার্জিং দল। বিসিবি এরই মধ্যে ১৫ সদস্যের ইমার্জিং দল ঘোষণা করেছে। সেই দলে ৪ জন জাতীয় ক্রিকেটার (জাকির হাসান, শাহাদাত হোসেন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন) আছেন। বলে রাখা ভালো, বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটার জাকির হাসান ১৩টি টেস্ট, ২টি ওয়ানডে ও ৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এ ছাড়া ডানহাতি ওপেনার শাহাদাত হোসেন দীপুও ৬টি টেস্ট ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। এক সময় জাতীয় দলের হয়ে ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলা লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের সঙ্গে ১টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে ম্যাচে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা উইকেটকিপার-ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও আছেন। ধারণা করা হয়েছিল, জাকির ও অঙ্কনের মধ্যে কেউ একজন নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু অবাক করা সত্য হলো, খেলোয়াড় তালিকায় কারও নামের পাশেই অধিনায়ক শব্দটি লেখা নেই। বিসিবি থেকে যে আনুষ্ঠানিক খেলোয়াড় তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ক্যাপ্টেন শব্দটাই নেই!