জরিমানা ৫ লাখ টাকা __ আদালতে শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তাহেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা
খুলনা ব্যুরো :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের অপরাধে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২২ জুন সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত জরিমানার অর্থ আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায়ের নির্দেশও দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে প্রতিবেশী আবু তাহের চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গোপন করতে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিন কুষ্টিয়া শহর থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলায় চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার ১১৬ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে রায় দেওয়ার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন। তাঁরা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা দেবে।