পরিবেশ রক্ষা একদিনের নয় প্রতিদিনের দায়িত্ব বা পরিবার থেকেই শুরু হোক পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন

 প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন   |   খুলনা

পরিবেশ রক্ষা একদিনের নয় প্রতিদিনের দায়িত্ব   বা  পরিবার থেকেই শুরু হোক পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন

খুলনা ব্যুরো :

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে পরিবারভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ক্লাইমেট অ্যাকটিভিস্ট ও আপস যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রেদওয়ানুল রুহান।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় আজকের উদ্যোগই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ পৃথিবীর ভিত্তি। পরিবার থেকেই শুরু হোক এ যাত্রা।

রেদওয়ানুল রুহান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও এর প্রভাব গভীরভাবে অনুভব করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পানির সংকটের মতো নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

তিনি বলেন, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। অথচ এই সংকট সৃষ্টিতে তাদের অবদান সবচেয়ে কম। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর হাজারো পরিবার বসতভিটা, জীবিকা ও নিরাপত্তা হারাচ্ছে।

জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ তুলে রুহান বলেন, উপকূলের মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও কণ্ঠস্বরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই জলবায়ু নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

পরিবেশ রক্ষায় পরিবারভিত্তিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৃক্ষরোপণ, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী।’ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সুন্দরবনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে রুহান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুবসমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি প্রতিদিনের দায়িত্ব। আজ আমরা প্রকৃতির জন্য যা করব, আগামী প্রজন্ম তার সুফল ভোগ করবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তিনি দেশের সব নাগরিক, বিশেষ করে তরুণদের প্রতি পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলা, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement