৯৪ কোটি টাকার চেক বিতর্কে খুলনা ওয়াসার প্রকৌশলী, তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়
খুলনা ব্যুরো :
খুলনা ওয়াসার প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদকে ঘিরে আলোচনার মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তার নামে পরিচালিত একটি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা চারটি চেকে মোট ৯৪ কোটি টাকার অঙ্ক উল্লেখ থাকার অভিযোগে বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে।
ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পানি সরবরাহ প্রকল্প-২–এর রুটিন দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর রেজাউল ইসলামকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের আপত্তির মুখে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তাকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এর কিছুদিন পর সাউথইস্ট ব্যাংক, খুলনা শাখার হিসাব নম্বর ০০১২১০০০১৭৬৫৯–এর বিপরীতে ইস্যু করা চারটি চেকের ফটোকপি বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। চেকগুলোর দুটিতে ২৪ কোটি টাকা করে ৪৮ কোটি এবং অপর দুটিতে ২৩ কোটি টাকা করে ৪৬ কোটি টাকার অঙ্ক উল্লেখ ছিল। মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ৯৪ কোটি টাকা। তবে চেকগুলোতে প্রাপকের নাম ও তারিখ উল্লেখ ছিল না।
সাউথইস্ট ব্যাংক খুলনা শাখার ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, উল্লিখিত হিসাবটি রেজাউল ইসলামের নামে পরিচালিত ছিল এবং চেকগুলো ওই হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা হয়েছিল। তবে ব্যাংকিং নীতিমালার কারণে লেনদেনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নেয়। গত ২৩ মে প্রতিমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল স্বাক্ষরিত স্মারক নম্বর ৪৭.০০.০০০০.০০১.২৫.২০২৬-৪১৮–এর এক চিঠিতে খুলনা ওয়াসা–সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদকে ‘উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, দায়িত্ব পালনকালে রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়া ও বিল পরিশোধসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর দাবি, অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে রেজাউল ইসলামের পদোন্নতির বিষয়ে তিনি কখনো সুপারিশ করেননি।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) খুলনা শাখার নেতারা দাবি করেছেন, রেজাউল ইসলাম অতীতে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রকৌশলী প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।