সংবাদ শিরোনাম

খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র, চড়া দামে বিক্রি অব্যাহত

 প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন   |   খুলনা

খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র, চড়া দামে বিক্রি অব্যাহত

খুলনা ব্যুরো

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।

সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ড্রাম ও পাত্রে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে পরে বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়িতে চড়া দামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর কয়েকটি এলাকায় প্রতি লিটার অকটেন ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অবৈধ বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

শুক্রবার খালিশপুর এলাকায় তিনটি ভ্যানে বহন করা ছয় ড্রাম জ্বালানি তেল আটক করা হয়। একই দিন দৌলতপুর পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ডিপো পরিদর্শনে গিয়ে সংরক্ষিত তেলের পরিমাপে ঘাটতি পাওয়া যায় বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

শনিবার জিরোপয়েন্ট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করায় এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর আগে ফুলতলা এলাকা থেকে এক হাজার ২৩৫ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর এলাকায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডুমুরিয়া এলাকাতেও পাত্রে তেল সরবরাহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সীমিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন গ্রাহকরা। 

অনেকেই স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে বরাদ্দ কম আসায় সংকট তৈরি হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কম ওজন দেওয়া বা বেশি দামে তেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।