সংবাদ শিরোনাম

রক্ষণের ভুলে হ্যাটট্রিক শিরোপা হাতছাড়া, ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

 প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা

রক্ষণের ভুলে হ্যাটট্রিক শিরোপা হাতছাড়া, ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক:

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সামনে ছিল ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ—টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি ঘরে তোলার হাতছানি। কিন্তু ফাইনালের মহা-মঞ্চে রক্ষণের চরম দুর্বলতা আর আক্রমণে ধারহীনতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো লাল-সবুজের মেয়েদের।

শনিবার ভারতের ফতোরদার পন্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ফাইনালটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরাশক্তির মর্যাদার লড়াই। ম্যাচের প্রথমার্ধে সমানে সমান লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর ভারতীয় ঝড়ের সামনে টিকতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ ম্যাচের শুরুতেই লিড নেওয়ার বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন তহুরা খাতুন, যা পরবর্তীতে পুরো দলের জন্য বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই পেয়ারি জাজার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ভারত। তবে হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) তহুরা খাতুনের রক্ষণভেদী পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা। ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতি থেকে ফিরেই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভারতের সানফিদার চতুর হেডে আবারও পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজরা। গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে এরপর একের পর এক আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। উল্টো ম্যাচের ৮২ মিনিটে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আফঈদা খন্দকারের এক মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে যান ভারতের বদলি খেলোয়াড় লিন্ডা কোমে। ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

ম্যাচের কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার এদিন শুরুর একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন। অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে একাদশে ফিরিয়ে আনা হলেও আজ নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হন তারা। বিশেষ করে তহুরার দুটি মিস ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে রক্ষণভাগে কোহাতি ও আফঈদার অনমনোযোগী ও অগোছালো ফুটবল ভারতের ফরোয়ার্ডদের কাজ সহজ করে দেয়।

ম্যাচে দুই দলের গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্সও বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ভারতীয় গোলকিপার পান্থই চানু বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করে দলকে জয়ের পথে রাখেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি প্রথমার্ধে কিছু ভালো সেভ করলেও, পজিশনিংয়ের ভুল এবং সঠিক সময়ে বল ক্লিয়ার করতে না পারায় দলের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন।

এই রাজকীয় জয়ে ২০১৯ সালের পর আবারও সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো ভারত। আর বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হলো নিজেদেরই রক্ষণের ভুলে।

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর এই হার বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য বড় ধাক্কা হলেও, পুরো টুর্নামেন্টে তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো জাগিয়ে রাখছে। ঋতুপর্ণা চাকমার ধারাবাহিকতা এবং ছোট শামসুন্নাহারের লড়াকু প্রচেষ্টা প্রমাণ করেছে যে, সঠিক প্রস্তুতি ও ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আধিপত্য ফিরে পাওয়া সম্ভব।

তবে এই হারের পর এখন বড় প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পরবর্তী পরিকল্পনা কী হবে? টিম ম্যানেজমেন্ট কি নতুন করে রক্ষণভাগ সাজাবে, নাকি আক্রমণভাগে ধার বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে? একই সাথে ভারতের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া সিংহাসন আবারও শক্তভাবে ফিরে পেয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement