আলোকিত প্রজন্ম গড়তে বই পড়ার বিকল্প নেই
খুলনা ব্যুরো :
বই মানুষকে বদলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনার পরিধি বাড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের বই পড়াকে নেশা ও অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীল সাহিত্য ও ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খুলনায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত স্কুল পর্যায়ের দিনব্যাপী বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার ৭ আগষ্ট খুলনা সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভালো বই শুধু গল্প বলে না, পাঠকের মনের কথাও শোনে। নিজেদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের বেশি করে বই পড়তে হবে। সাহিত্যবিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক বই পড়ার প্রতিও আগ্রহী হতে হবে। বইপড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
বক্তারা আরও বলেন, আলোকিত প্রজন্ম গড়ার জন্য বই পড়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান, সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মন্ডল, সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান এবং গ্রামীণফোন খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে চারটি পর্বে খুলনা মহানগরের ৩০টি স্কুলের ২ হাজার ২৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়। আরও ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে খুলনা মহানগরের ৪৬টি স্কুলের মোট ৩ হাজার ২৬৯ জন শিক্ষার্থী বইপড়া কর্মসূচিতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গত ৪৮ বছর ধরে দেশজুড়ে সংস্কৃতিমনস্ক ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম’ পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ বইপড়া কর্মসূচি চলমান। এতে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।