নক্ষত্রপতন: চিরবিদায় নিলেন নাসার বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. রেজাউল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা এক নক্ষত্রের পতন ঘটেছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সাবেক বিজ্ঞানী ড. এম রেজাউল হক আর নেই। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দূর পরবাসে থাকলেও নিজের মেধা আর কর্মের মাধ্যমে তিনি আমৃত্যু শেকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন।
ড. রেজাউল হকের প্রয়াণের খবরটি পৌঁছানোর পর তার জন্মভিটা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লাবারুইপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় কেল্লাবারুইপাড়া জামে মসজিদে তার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় তার নিকটাত্মীয় ছাড়াও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়ে এই কৃতি সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফহিম উদ্দিন বিশ্বাস এবং আনোয়ারা খাতুন দম্পতির নয় সন্তানের মধ্যে রেজাউল হক ছিলেন তৃতীয়। মেধাবী এই বিজ্ঞানী ছাত্রজীবন শেষ করেই পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে কয়েক দশক ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি প্রকৌশল বিদ্যায় অসামান্য অবদান রাখেন। তার এই অনন্য মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীকালে তিনি ডাক পান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসায়। নাসায় দীর্ঘদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান।
ড. রেজাউল হক কেবল একজন বিজ্ঞানীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গের সাধারণ জনপদ থেকে উঠে আসা এক স্বপ্নদ্রষ্টা। তার হাত ধরে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহলে বাংলাদেশের মেধার জয়জয়কার নিশ্চিত হয়েছিল। নিজ এলাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও দানশীল মানুষ হিসেবে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে থেকেও তিনি প্রায়ই নিজ গ্রাম ও স্বজনদের খোঁজখবর নিতেন।
তার এই প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান মহলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গুণী এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুতে দেশের বিজ্ঞানচর্চায় এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তার মৃত্যু সংবাদে শোকাতুর গ্রামবাসী ও স্বজনরা এখন কেবলই তার ফেলে যাওয়া স্মৃতিটুকু আঁকড়ে ধরে আছেন। মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখা এই মানুষটি চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেলেও, তার কৃতিত্ব আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।