সরকার দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে -বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

 প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সরকার দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে   -বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী


ঢাকা, ২ আষাঢ় (১৬ জুন):

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন,  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত সুনীল অর্থনীতির সকল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন করার লক্ষ্যে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র ভিত্তিক শিল্প প্রযুক্তির উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সমুদ্রে পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ করা হবে।

আজ খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)-এর জন্য দেশে নির্মিতব্য প্রথম আন্তর্জাতিকমানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল’ এর আনুষ্ঠানিক কিল লেয়িং এবং  একইসাথে গবেষণা জাহাজটির মুরিং সহায়তার জন্য নির্মিতব্য সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন এর কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি'র বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। একটি গবেষণা জাহাজের Keel Laying Ceremony হচ্ছে জাহাজ নির্মাণের প্রাথমিক ধাপ।  আজকের এই ভিত্তিপ্রস্তর বাংলাদেশের সমুদ্রবিজ্ঞান, সামুদ্রিক সম্পদ অনুসন্ধান, ব্লু ইকোনমি এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ যাত্রার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আরো বলেন, একটি আধুনিক গবেষণা জাহাজ মূলত একটি ভাসমান গবেষণাগার। এটি কেবল পরিবহনের মাধ্যম নয় এটি বিজ্ঞানীদের জন্য একটি চলমান গবেষণা কেন্দ্র, যেখানে সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থান করেই তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যই ছিল দেশের সামুদ্রিক সম্পদ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং সেই জ্ঞানকে জাতীয় উন্নয়নের কাজে লাগানো। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ, উপকূলীয় ইকোসিস্টেম, সামুদ্রিক দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। সাগরের নিচে সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্যতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাগরের নিচে এত খনিজ সম্পদ রয়েছে এটিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আর সে গবেষণার জন্যই  আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা আমাদের সক্ষমতায় এই জাহাজ নির্মিত হতে যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য গৌরবের।

তিনি আরো বলেন, জাপানীরা সমুদ্রের তলদেশ হতে অনেক সামুদ্রিক খাবার আহরণ করছে। আমরাও 

যদি সমুদ্রের নিচে যায়, গভীরে যাই তাহলে খাদ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নতুন করে আরও মডার্ন ফিশিং শিপকে অনুমতি দেয়া হবে। সমুদ্র আজ কেবল খাদ্যের উৎস নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুনীল অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। 

 জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দেশের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা জাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করবে এবং প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশ এখন শুধু জাহাজ ব্যবহারকারী দেশ নয় বরং জাহাজ নির্মাণেও একটি সক্ষম ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আরো বলেন, সামুদ্রিক সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষায়িত গবেষণা সেল গড়ে তোলা হবে।  এছাড়াও শিক্ষা ও শিল্প খাতে মেরিটাইম ইনোভেশন ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা খাতের অংশীদারিত্বে সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন তহবিল মেরিটাইম ইনোভেশন ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ মিনারুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার এডমিরাল একেএম জাকির হোসেন।

অনুষ্ঠানে  খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের  বিজ্ঞানী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকৌশলী, নৌ-প্রযুক্তিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (DPM) আওতায় একটি নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)-এর জন্য একটি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, একটি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন নির্মাণ করবে। গবেষণা জাহাজ ও পন্টুনের কিল লেয়িং এর মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সকল নির্মাণকাজ ২০২৭-২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। 

Advertisement
Advertisement
Advertisement