জুলাই থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধ শুরু, উৎসব ভাতা শতভাগ করার উদ্যোগ

 প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

জুলাই থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধ শুরু, উৎসব ভাতা শতভাগ করার উদ্যোগ

দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া সুবিধা পরিশোধ, উৎসব ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রধান শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দও পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৬৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তাঁদের প্রাপ্য অবসর সুবিধার অর্থ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই সংকট নিরসনে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেককে ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে এবং আগামী জুলাই মাস থেকেই অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আশ্বাস দেন, পর্যায়ক্রমে সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান তিনি। বর্তমানে শিক্ষকেরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পেলেও তা শতভাগে উন্নীত করার প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি উৎসব ভাতায় অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও চলমান বলে জানান তিনি। বাজেট অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে আছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে চলমান বিপুলসংখ্যক মামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিষয়ে বর্তমানে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে শিক্ষা খাতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement