জনগণের নয়, বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থেই বিরোধীদের বাজেট বিরোধিতা: প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন: কৃষি ও জনকল্যাণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানোর বিষয়টি উপেক্ষা করে বিরোধী দল শুধুমাত্র মদ, সিগারেট ও বিলাসপণ্যের ওপর কর বৃদ্ধিকে ইস্যু করছে।
তিনি বলেন, সরকারের নতুন বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের ৩৭টি পণ্যের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে, যা জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু বিরোধী দল এ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে শুধু নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের কর বৃদ্ধির সমালোচনা করছে। এর মাধ্যমে তাদের অবস্থান ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে জনগণ সহজেই ধারণা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনা। বিরোধীদের রাজনৈতিক সমালোচনার চেয়ে জনগণের কল্যাণকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা জোরদার করতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কৃষি সহায়তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে কৃষকদের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
পথসভায় সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রায় পাঁচ দশক আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা পাতলী খাল এলাকার কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে খালটি নাব্যতা হারানো ও দখলের কারণে কার্যকারিতা হারালেও পুনঃখননের মাধ্যমে তা আবারও কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল পুনঃখনন ও জলাধার সংস্কারের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকের সমৃদ্ধির মধ্য দিয়েই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।