ঈদের পর বেড়েছে মুরগি মাছ ও সবজির দাম

 প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ঈদের পর বেড়েছে মুরগি মাছ ও সবজির দাম

অর্থ ও বানিজ্য ডেস্ক:

ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অনেক পরিবার এখনো গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করায় রাজধানীর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

তবে নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বরং ঈদের পর মুরগির দাম বেড়েছে, বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। মাছের বাজারেও দেখা গেছে বাড়তি দাম।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, রামপুরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা দোকান খুলে বেচাকেনা শুরু করলেও অন্যান্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম। বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দোকান এখনো বন্ধ থাকলেও মুরগির দোকানগুলোতে সীমিত পরিসরে বিক্রি চলছে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি ৩৪০ থেকে ৩৫০ এবং লেয়ার মুরগি ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে সোনালি মুরগির দাম ৩০০ টাকার নিচে ছিল। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দামও ঈদের পর কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কলাবাগান থেকে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রুহুল আমিন বলেন, ‘ঈদের পরপরই মুরগির দাম বাড়তে দেখছি। ঈদের আগেও ব্রয়লার ১৬০ টাকা কেজি কিনেছি, আজ কিনলাম ১৮০ টাকা কেজি দরে।’

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের একজন মুরগি বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদের পর গতকাল থেকেই ব্যবসা আরম্ভ করেছি। কাস্টমার নাই, বেচাকেনাও তেমন নাই। এখনো মানুষ ঢাকায় আসেনি। মাত্রই ঈদ শেষ হয়েছে। বাজারে চাহিদাও কম, সরবরাহও কম। সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।’

ডিমের বাজার অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদের আগের সপ্তাহে যে দাম ছিল, এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। মুরগির লাল ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে সবজির বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। অধিকাংশ সবজি এখনো ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা, কাঁকরোল ও ঝিঙা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গোল বেগুন ৮০-১০০, শসা প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০, টমেটো ১২০ থেকে ১৫০, পটোল ও ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে। সবজির দামের ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রহিম বলেন, ‘ঈদের আগের তুলনায় কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে ক্রেতা কম থাকায় চাহিদাও কম। কিছু পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন সবজি বাজারে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসবে।’

বাজারে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০, প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ থেকে ৫০ এবং লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। মসলাজাতীয় পণ্য যেমন পেঁয়াজ, রসুন ও আদা ঈদের আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে ঈদের আগের তুলনায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বিক্রেতারা জানান, ‘ঈদের ছুটির কারণে সরবরাহ কিছুটা

কম থাকায় অনেক মাছই আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৫০, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়।’

এদিকে চালের দাম বাড়ায় নতুন করে চাপ তৈরি করেছে ক্রেতাদের ওপর।

Advertisement
Advertisement
Advertisement