টেকনাফে ফের জেগে উঠছে সীমান্ত বাণিজ্য: এক বছর পর মিয়ানমার থেকে কাঠের বোটের আগমন প্রত্যাশা
ডেক্স নিউজ:
প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছেড়ে আসা একটি পণ্যবাহী কাঠের বোট টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
শুক্রবার সকালে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মংডু এলাকার হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি যাত্রা শুরু করে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত বোটটি বন্দরের ঘাটে পৌঁছায়নি, তবে এটি পথে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ স্থলবন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর এই বোটটির আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের একটি ইতিবাচক সংকেত। বন্দরের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “বোটটি আজকের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আমরা বন্দরের কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
একইভাবে বন্দরের মাঝি শামসুল আলম জানান, এক বছরের বেশি সময় পর আবারও নৌযান আসার খবরে বন্দরের শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দ্রুত পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে টেকনাফ-মংডু নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিল। প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌ চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে গত বছরের এপ্রিল মাসে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন বা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে বাংলাদেশি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং সরকারও প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বোটের সফল আগমন নিয়মিত পণ্য পরিবহনের পথ সুগম করতে পারে। তাদের আশা, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে খুব দ্রুতই টেকনাফ স্থলবন্দর আবারও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরবে।
সীমান্ত বাণিজ্য চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা খাত পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।