ডেমরার আমুলিয়ায় পাশাপাশি দুই কারখানায় আগুন, দগ্ধ ২ — এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ডেমরার আমুলিয়ায় পাশাপাশি দুই কারখানায় আগুন, দগ্ধ ২ — এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক


রাজধানীর ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুজন দগ্ধ হয়েছেন। আহতরা হলেন কারখানার সহকারী অপারেটর সুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নাঈম হোসাইন। বৃহস্পতিবার (গতকাল) বিকেলে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে আমুলিয়া এলাকার একটি কালি তৈরির কারখানা এবং পাশের একটি প্লাস্টিক প্যাকেজিং সামগ্রী উৎপাদনকারী কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ছয়টি ইউনিট যুক্ত করা হয়। মোট আটটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পরপরই কারখানাগুলো থেকে ধোঁয়ার ঘন কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য রাসায়নিক ও প্লাস্টিকজাত উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে সুজনের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অপরদিকে ফায়ার ফাইটার নাঈম হোসাইনের ডান পায়ে সামান্য দগ্ধ হয়েছে এবং তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানা দুটির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement