ইউনাইটেডহেলথের প্রধান হত্যায় দোষ স্বীকার ম্যাঙ্গিওনের

 প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইউনাইটেডহেলথের প্রধান হত্যায় দোষ স্বীকার ম্যাঙ্গিওনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেডহেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার ঘটনায় ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন লুইজি ম্যাঙ্গিওনে। শুক্রবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে ২৮ বছর বয়সী ম্যাঙ্গিওনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন।

ম্যাঙ্গিওনের বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য পর্যায়ে এমনভাবে অনুসরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার পরিণতিতে মৃত্যু হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ ছিল আন্তঃরাজ্য যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে অনুসরণ করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানো। দুটিতেই তিনি দোষ স্বীকার করেন।

আদালতে ম্যাঙ্গিওনে জানান, ইউনাইটেডহেলথকেয়ারের বার্ষিক বিনিয়োগকারী সম্মেলন সম্পর্কে তিনি আগে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরে বিনিয়োগকারী পরিচয়ে কোম্পানিকে ই-মেইল করে সম্মেলন সম্পর্কে আরও তথ্য নেন। সেই তথ্য ব্যবহার করেই থম্পসনকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।

আদালতে থম্পসনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ম্যাঙ্গিওনে বলেন, ‘আমি মি. থম্পসনকে গুলি করেছি এবং তিনি মারা গেছেন। আমি জানতাম, আমি যা করছি তা বেআইনি।’

সর্বোচ্চ শাস্তি চাইতে পারে সরকার

দক্ষিণ নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড ম্যাঙ্গিওনের দোষ স্বীকারকে ‘পরিকল্পিত, হিসাব করে করা এবং পূর্বপরিকল্পিত’ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আদালত শুনানির পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ম্যাঙ্গিওনে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজের অসন্তোষের বিষয়ে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘কোনো ক্ষোভ, রাজনৈতিক বিশ্বাস বা আদর্শগত কারণই হত্যাকে বৈধতা দিতে পারে না। হত্যাকারী কখনো তারকা হতে পারে না।’

সরকারের সঙ্গে সমঝোতার বাইরে দেওয়া এই দোষ স্বীকারের কারণে তাঁর কার্যালয় আইনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ শাস্তি-যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-চাওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড।

ম্যাঙ্গিওনের আইনজীবী কারেন ফ্রিডম্যান অ্যাজনিফিলো বলেন, তাঁর মক্কেল থম্পসনের হত্যার ‘পূর্ণ দায়’ স্বীকার করেছেন। তবে একই ঘটনায় ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য-দুই পর্যায়ে মামলা চালানোয় ম্যাঙ্গিওনের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অঙ্গরাজ্যের মামলায় এখনো দোষ স্বীকার করেননি

ফেডারেল মামলার বাইরে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পৃথক মামলাও চলছে ম্যাঙ্গিওনের বিরুদ্ধে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যা এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে।

ওই মামলায় ম্যাঙ্গিওনে আগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন এবং এখনো তাঁর সেই অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার তাঁর আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের হত্যা মামলার অভিযোগ বাতিলের আবেদন করেছেন।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের এক বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ খারিজ করে দেন। বিচারক ওই অভিযোগকে আইনগতভাবে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন।

শুক্রবার অ্যাজনিফিলো বলেন, একই ঘটনার পরও তাঁর মক্কেল সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ ও মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থেকে সফলভাবে লড়াই করে বের হয়েছেন। নিউইয়র্কে একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত অন্য আসামিদের তুলনায় ম্যাঙ্গিওনের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আগামী মাসে অঙ্গরাজ্যের মামলার বিচার শুরুর কথা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী একই অপরাধে একজনকে দুবার বিচারের মুখোমুখি করা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ‘ডাবল জিওপার্ডি’ নীতির আওতায় মামলাটি খারিজ হতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে ম্যাঙ্গিওনের অঙ্গরাজ্যের মামলা খারিজের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করতে পারেন ম্যানহাটনের জেলা অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ। থম্পসনের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর দপ্তর ‘পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডে আলোচিত হন ম্যাঙ্গিওনে

৫০ বছর বয়সী থম্পসন ছিলেন দুই সন্তানের বাবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক শহরের একটি সড়কে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ দিন ধরে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। পরে পেনসিলভানিয়ার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁ থেকে ম্যাঙ্গিওনেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফেডারেল মামলায় ম্যাঙ্গিওনের সাজা ঘোষণা হবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement