দাঈশের হাতে জিম্মি মার্কিন নাগরিককে ছাড়াতে হাফতারের ভূমিকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে দাঈশের একটি সহযোগী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি থাকা মার্কিন ধর্মপ্রচারক কেভিন রাইডআউটকে মুক্ত করতে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শুক্রবার রয়টার্সকে পাঁচটি সূত্র জানায়, রাইডআউটকে মুক্ত করে লিবিয়ার মধ্য দিয়ে নিরাপদে বের করে আনতে হাফতারের বাহিনী সহায়তা করেছে। চারটি সূত্রের দাবি, এ জন্য একটি সমঝোতা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সূত্র বলেছে, মুক্তিপণও দেওয়া হয়েছিল।
তবে হাফতারের বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, রাইডআউটকে উদ্ধারে মালিতে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল এলএনএর একটি বিশেষ কমান্ডো দল। পরে তাঁকে বিমানে করে পূর্ব লিবিয়ার বেনগাজিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
রয়টার্স অবশ্য এলএনএর এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। রাইডআউটের মুক্তির বিনিময়ে কী দেওয়া হয়েছিল, সেটিও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হাফতারের ভূমিকা নিয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাইডআউটকে দেশে স্বাগত জানানোর প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
সাহেলে প্রভাব বাড়াচ্ছেন হাফতার
রাইডআউটকে মুক্ত করার ঘটনায় লিবিয়ার ভূমিকার কথা এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি। রয়টার্সের সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই ঘটনায় হাফতারের সম্পৃক্ততা সাহেল অঞ্চলে একজন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।
হাফতার এই অবস্থানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগাচ্ছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাইডআউট খ্রিষ্টান ধর্মভিত্তিক সংগঠন সার্ভিং ইন মিশনের হয়ে কাজ করতেন। গত বছরের অক্টোবরে তাঁকে নাইজার থেকে অপহরণ করা হয়।
রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নিয়ামের বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে তিন অজ্ঞাত ব্যক্তি রাইডআউটকে অপহরণ করে। পরে তাঁকে নাইজারের পশ্চিমাঞ্চলের তিল্লাবেরি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দাঈশ ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়।
সাহেল অঞ্চলে রাইডআউটকে উদ্ধারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছিল। কয়েক মাস ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছিলেন, তাঁকে হয়তো মালির ভূখণ্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মুক্তির প্রচেষ্টায় ব্যবসায়ীর ভূমিকা
দুটি সূত্র জানিয়েছে, দাঈশের সহযোগী গোষ্ঠীর কাছ থেকে রাইডআউটকে মুক্ত করার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্বে ছিলেন মালির আরব বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী শরিফ উলদ তাহার।
আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তাহারের যোগাযোগ রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পায়নি।
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হাফতারের বাহিনী এবং পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষের মধ্যে দেশটির ক্ষমতা বিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে সাহেল অঞ্চলে হাফতারের নিরাপত্তা-সম্পর্কিত যোগাযোগ ও প্রভাব তাঁর আঞ্চলিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।