হরমুজ প্রণালীতে ইউএইর তেল কোম্পানির জাহাজে হামলা

 প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে ইউএইর তেল কোম্পানির জাহাজে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) একটি জাহাজে হামলা হয়েছে। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে এডনক। হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউএইর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের বরাতে এডনক জানায়, শুক্রবার ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়।

এক বিবৃতিতে এডনক সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা, নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

এর এক দিন আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় এডনকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল ইউএই। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘ইরানের শত্রুতামূলক হামলা’ হিসেবে নিন্দা জানায়। ওই হামলাতেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে এডনক জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে তাদের তিনটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর এক দিন পর ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও একটি এডনক ট্যাংকারে হামলার কথা জানায়।

সংঘাতের কেন্দ্র হরমুজ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অবাধ ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জলপথটিতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠছে ইরানের বিরুদ্ধে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে কার্যত অবরোধ আরোপ করেছে তেহরান। হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে।

হরমুজ প্রণালীতে ধারাবাহিক হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।

এরপর জুনে স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমান অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করা হবে।

প্রণালী খুলতে ইরানের শর্ত

গত সপ্তাহে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য কয়েকটি শর্তের কথা জানান।

তাঁর শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement