ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারে সময়সীমা চান লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারে সময়সীমা চান লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জন্য স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম। তবে তাঁর সরকারের আলোচনার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেমের অভিযোগ, এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে লেবাননের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েলি চাপ ও হামলার ঝুঁকিতে ফেলছে সরকার।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এবং লেবাননে মার্কিন সামরিক সমন্বয়কারী দলের প্রধান জেনারেল জোসেফ ক্লিয়ারফিল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সালাম। বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার সামরিক বিষয় এবং দক্ষিণ লেবাননের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সালাম ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ, পরীক্ষামূলক এলাকার পরিধি বাড়ানো এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছেন।

লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরিও একই মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন।

বেরি বলেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা ও লঙ্ঘন বন্ধ হয়নি। গ্রাম ধ্বংস, কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে নষ্ট করা, বনাঞ্চলে আগুন লাগানো এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হলো ইসরায়েলকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে ফিরে যেতে বাধ্য করা।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইসা আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে পরবর্তী দফার আলোচনা কবে হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তারিখ জানাননি।

‘লেবাননের সেনাবাহিনীকে অপমান করা হচ্ছে’

বৈরুতের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম। তাঁর অভিযোগ, অকার্যকর একটি চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে লেবাননের কর্মকর্তারা সেনাবাহিনীকে ‘অযাচিত চাপের’ মধ্যে ফেলছেন।

শুক্রবার তিনি বলেন, ‘লেবাননের সেনাবাহিনীকে এভাবে চলমান অপমানের মধ্যে কীভাবে মেনে নিতে পারেন? তাকে হামলা ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ফেলে দেওয়ার বদলে আপনারা কেন তাকে রক্ষা করছেন না?’

কাসেমের দাবি, ইসরায়েল এমন একটি তদারকি ব্যবস্থার অধীনে লেবাননকে আনতে চাইছে, যেখানে দেশটির সেনাবাহিনীর মোতায়েন ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রথম নির্ধারিত পরীক্ষামূলক এলাকা জাওতার আল-গারবিয়েহতে ইসরায়েল বাড়িঘরে হামলা ও সুড়ঙ্গ ধ্বংস চালিয়ে যাচ্ছে।

আলোচনায় সাত দফা বৈঠকের পর কী অর্জন হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাসেম কর্মকর্তাদের বলেন, ‘সাত দফা আলোচনার একটি অর্জনের নাম বলুন।’

তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইসা বলেছেন, হিজবুল্লাহ অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হবে না।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা যদি অস্ত্র ছেড়ে দেয়, সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে।’

ইসরায়েলি প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ

জুনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে যে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। বর্তমানে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করছে।

তবে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো অনেক। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে না।

ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একাধিক শহর ও এলাকায় অবস্থান ধরে রেখেছে। সেখানে বাড়িঘর ধ্বংস এবং বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।

পরবর্তী দফার আলোচনা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ফের শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৪ হাজার ৩৩৫ জন নিহত ও ১২ হাজার ২৭৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement