ব্রাজিলের নির্বাচনে ফ্লাভিওর চাপে লুলার লিড কমেছে

 প্রকাশ: ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ব্রাজিলের নির্বাচনে ফ্লাভিওর চাপে লুলার লিড কমেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে ব্যবধান কমে এসেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার। নতুন এক জনমত জরিপে লুলা এগিয়ে থাকলেও দুই নেতার ব্যবধান এতটাই কম যে তা পরিসংখ্যানগতভাবে প্রায় সমতায় পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত কুয়েস্টের জরিপ অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোট হলে লুলা ৪৩ শতাংশ এবং ফ্লাভিও বলসোনারো ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। জরিপটির ভুলের সীমা ২ শতাংশ হওয়ায় এই ব্যবধানকে কার্যত পরিসংখ্যানগত সমতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগের ৫ আগস্টের কুয়েস্ট জরিপে লুলা ৪৪ শতাংশ এবং ফ্লাভিও ৩৯ শতাংশ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দুই নেতার ব্যবধান পাঁচ শতাংশ থেকে কমে তিন শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম দফার সম্ভাব্য ভোটে অবশ্য লুলার অবস্থান তুলনামূলক শক্ত। সেখানে লুলা ৩৮ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন। ফ্লাভিওর সমর্থন ৩১ শতাংশ। অন্য তিন প্রার্থী—রেনান সান্তোস ও রোনালদো কাইয়াদো ৪ শতাংশ করে এবং রোমেউ জেমা ২ শতাংশ ভোট পেতে পারেন।

ব্রাজিলের নির্বাচনী আইনে প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পেলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হন।

বাবার পর ডানপন্থীদের নেতৃত্বে ফ্লাভিও

সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বড় ছেলে ফ্লাভিও এবার ব্রাজিলের ডানপন্থীদের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনে তাঁর বাবা জইর বলসোনারো প্রার্থী হতে পারছেন না।

ব্রাজিলের সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জইর বলসোনারোকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। পরে ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয় উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের মামলায়ও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

কুয়েস্ট ১০ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৪ জনের ওপর জরিপটি চালায়। ব্রাজিলের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান গ্লোবোর অর্থায়নে পরিচালিত হয় জরিপটি।

নির্বাচনী প্রচারে ‘সার্বভৌমত্ব’কে গুরুত্ব লুলার

গত ২ আগস্ট সাও পাওলোতে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে নিজের নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন লুলা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মধ্যে তিনি নিজেকে ব্রাজিলের ‘সার্বভৌমত্বের’ রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

লুলা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশের বিরল মাটি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রস্তুত থাকতে চাই, যাতে কেউ এই দেশ আক্রমণ করতে না পারে।’

চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে ব্রাজিলের খনিজ সম্পদে প্রবেশের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার শর্ত মেনে চলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে লুলা বলেন, ‘ব্রাজিলে যেখানে কারও নাক গলানোর কথা নয়, সেখানে তা আমরা মেনে নিই না।’

ট্রাম্পের সঙ্গে বলসোনারা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত জুনে লুলা ট্রাম্পকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

লুলা তখন বলেছিলেন, ‘ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না। কারণ ব্রাজিলের নির্বাচন ব্রাজিলের বিষয়, যেমন আমেরিকার নির্বাচন আমেরিকার বিষয়।’

ভোটের আর প্রায় দুই মাস বাকি থাকতেই লড়াইটি ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। জরিপগুলোতে এখনো লুলা সামান্য এগিয়ে থাকলেও প্রচারের শেষ পর্যায়ে ব্যবধান আরও কমে আসার ইঙ্গিত মিলছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement