নতুন হামলা হলে জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে ‘সমানুপাতিক ও দৃঢ়ভাবে’।
শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে এ বার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে এগিয়ে এলে সেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলাপে আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ জবাব ইরান দৃঢ়ভাবে দেবে। পাশাপাশি তিনি ওয়াশিংটনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন।
পরে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলোচনায় আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি নতুন হামলা চালায় অথবা এ ধরনের অভিযানে আঞ্চলিক কোনো দেশ অংশ নেয়, তাহলে ইরান তার ‘সমানুপাতিক জবাব’ দেবে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ দাবি করেছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্র, কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে পাল্টা হামলা চালাতে পারে তেহরান। তাদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে এসব স্থাপনা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে আলোচনার মাধ্যমে এখনো ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং প্রয়োজনে নতুন হামলারও ইঙ্গিত দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। জুলাই মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছর জুড়েই এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সংঘাত শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার কুয়েতের উত্তরাঞ্চলের একটি সরকারি স্থাপনা এবং বুবিয়ান দ্বীপে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে বস্তুগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে লক্ষ্য করে হুমকি জোরদার করেছে। এই নৌপথ সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিটেনের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে শনিবার দুটি পৃথক সামুদ্রিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এর একটিতে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষতি হয়। অন্য ঘটনায় আরেকটি জাহাজের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।