নেতানিয়াহুর মুখোমুখি ভ্যান্স, ইসরায়েল সমালোচনা নিয়ে আলোচনা

 প্রকাশ: ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর মুখোমুখি ভ্যান্স, ইসরায়েল সমালোচনা নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে সাম্প্রতিক ইসরায়েল-সংক্রান্ত সমালোচনার বিষয়টি তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই নেতা এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, ভ্যান্সের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে নেতানিয়াহু সরাসরি কথা বলেন। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বৈঠককে “খোলামেলা ও অকপট” বলে বর্ণনা করেছেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনায় মতপার্থক্য থাকলেও সেটি কোনোভাবেই সংঘাতপূর্ণ ছিল না।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হন। তাঁর দাবি, পুরো বৈঠকই ছিল আন্তরিক ও ফলপ্রসূ।

এ ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে সংযত অবস্থানের পক্ষে সবচেয়ে সরব কণ্ঠগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন ভ্যান্স। গত জুনে তিনি ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক উদ্যোগের বিরোধিতা করা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে দেশের “একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের” বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন না।

চলতি মাসে ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ পডকাস্টেও ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা কূটনীতির পরিবর্তে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে ওয়াশিংটনকে উৎসাহিত করেছিলেন।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের মধ্যে এক টেলিফোন আলাপও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সে সময় তেহরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে—এমন ইসরায়েলি মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ভ্যান্স।

তবে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরেছেন তিনি। গত মাসে সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, নেতানিয়াহু “কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন”, তবু তিনি যুক্তরাষ্ট্রের “ভালো অংশীদার”। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, দুই দেশের স্বার্থে মিল থাকলে সহযোগিতা চলবে, আর স্বার্থের অমিল হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।

হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল সরকার মঙ্গলবারের বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অ্যাক্সিওসই প্রথম এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement