চাপের মুখে বিশ্বকাপ বেচার পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার নতুন প্রতিষ্ঠানে ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সদস্য দেশগুলোর তীব্র আপত্তি ও ব্যাপক বিরোধিতার মুখে শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত জানান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফার পরিকল্পনা ছিল নতুন একটি ইউনিট গঠন করে সেখানে প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা। এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কথা ছিল।
তবে প্রস্তাব ঘোষণার পর থেকেই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল সংগঠন এর বিরোধিতা শুরু করে। উয়েফা অভিযোগ করে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ফুটবলের ‘আত্মা’ বিক্রির পথে যাচ্ছে ফিফা।
ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে বলেন, “সব পক্ষের মতামত গুরুত্ব দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্প এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সবসময় ছিল ঐক্য তৈরি করা এবং ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো। তাই এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।”
ফিফা জানিয়েছিল, বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। সংস্থাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সমালোচনাকে পরিকল্পনার ভুল ব্যাখ্যা বলেও দাবি করেছিল।
পরিকল্পনাটি অনুমোদনের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মতি দিলে প্রতিটি সদস্য দেশকে ৪ কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা।
বিরোধিতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইউরোপে। বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে জানায়, প্রস্তাব প্রত্যাহার না হলে তারা ফিফার সব টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাদের ভাষায়, বিশ্বকাপকে কোনো ‘বিনিয়োগ পণ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও একই দিনে এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে। শুক্রবার ৪৭ সদস্যের এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) উয়েফা ও কনকাকাফের অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির অধীনে থাকা ১৪৩টি জাতীয় ফুটবল সংস্থা ফিফার মোট ২১১ সদস্যের অর্ধেকের বেশি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন ছিল।
ফিফার ভেতরেও এই উদ্যোগ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো পদত্যাগ করেন। তিনি পরিকল্পনাটিকে ‘ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেন।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন ল্যামুরও কর্মীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি প্রস্তাবটিকে ‘এক ব্যক্তির প্রকল্প’ বলে বর্ণনা করেন।
আগামী বছর ফিফা সভাপতির নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। উত্তর আমেরিকার ফুটবল প্রধান ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলে খবর রয়েছে।
ফিফা এর আগে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, থ্রাইভ ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনারের পরিচালিত তহবিল থ্রাইভ ইটারনাল এই বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। জোশুয়া কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ার পর ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফিফার এই বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলোচনা করেননি।