ট্রাম্প বললেন, মিনেসোটা সাইবার হামলায় ইরান দায়ী নয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মিনেসোটার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চালানো সাইবার হামলার পেছনে ইরান জড়িত বলে তিনি মনে করেন না। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা শুনেছি মিনেসোটায় একটি সাইবার হামলা হয়েছে এবং তারা এর জন্য ইরানকে দায়ী করছে। আমি তা মনে করি না।” একই সঙ্গে তিনি মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজকে আক্রমণ করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি বরং মিনেসোটার “চরম অদক্ষতাকে” দায়ী করবেন।
তবে হামলাটি কোথা থেকে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস দপ্তরও বিস্তারিত জানায়নি—প্রেসিডেন্ট কারা হামলার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বা মিনেসোটার ভূমিকা নিয়ে তার অবস্থান কী।
গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ট্রাম্প জানেন এই হামলার জন্য কারা দায়ী এবং তিনি এটাও জানেন যে অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছে।
ওয়ালজ আরও অভিযোগ করেন, ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) কার্যক্রম সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ)-এর সক্ষমতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে। একই সঙ্গে তিনি মিনেসোটার বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা করেন, যারা দ্রুত দুর্বলতা শনাক্ত করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএ জানিয়েছে, তারা পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এবং সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে মিলে হামলার পরিধি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কাজ করছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একটি গোয়েন্দা নথির তথ্যের মিল নেই। ওয়্যার্ডের প্রকাশিত ওই নথিতে বলা হয়েছে, মিনেসোটার ফিউশন সেন্টার ২৬ ও ২৭ জুলাইয়ের হামলাগুলোকে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার নাশকতা অভিযানের সঙ্গে “সামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে চিহ্নিত করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন ও অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, হামলার পেছনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং মিনেসোটার রাজ্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, এসব হামলার ধরন ওই ধরনের সাইবার কার্যক্রমের সঙ্গে মিলে যায়, যেগুলোকে এফবিআই, এনএসএ, ইপিএ ও সিআইএসএসহ সাতটি মার্কিন সরকারি সংস্থা গত ২২ জুলাই ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিল।
এফবিআই বৃহস্পতিবার এক সতর্কবার্তায় জানায়, ২৭ জুলাইয়ের পর অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব হামলায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো ফেডারেল বা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় কারও ওপর চাপায়নি। এফবিআই শুক্রবার জানিয়েছে, তারা এসব ঘটনার বিষয়ে অবগত এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
সাইবার হামলার মতো বড় ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে। ২০১৬ সালে তিনি রাশিয়াকে হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল হ্যাক করার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ওই বছরের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তিনি খাটো করে দেখিয়েছিলেন।